বুধবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালের মহারণে মাঠে নামার আগে নিজের দলের খেলার ধরন নিয়ে ওঠা সমালোচনা কড়া ভাষায় উড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। আসরজুড়ে আলবিসেলেস্তেরা তাদের চেনা ছন্দে নেই, সমালোচকদের এমন মন্তব্যের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানিয়ে দেন, মাঠের বাইরে কে কী বলল তাতে তাঁর কিচ্ছু যায় আসে না।
আর্জেন্টাইন কোচ দৃঢ়তার সাথে বলেন, মানুষ যতটা বলছে, দল আসলে ততটাও খারাপ খেলছে না। আমরা নিশ্চয়ই ভালো কিছু করেছি, যার কারণে আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরেছি। আমি আমার খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞ। ওরা আমাদের তিনটি বড় শিরোপা (২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ বিশ্বকাপ) এনে দিয়েছে এবং এখন আরও একটি সেমিফাইনালে তুলেছে। আমরা ফাইনাল থেকে আর মাত্র এক ধাপ দূরে আছি এবং সেখানে পৌঁছাতে আমরা আমাদের জানপ্রাণ লড়িয়ে দেব।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জে’-তে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রাখে আর্জেন্টিনা। এরপর একে একে কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে তারা। তবে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। কেপ ভার্দে এবং সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে জিততে হয়েছে। অন্যদিকে, শেষ ১৬-র ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসির জাদুকরী প্রত্যাবর্তনে ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল লাতিন পরাশক্তিরা।
টানা তিনটি বৈশ্বিক ট্রফি জয়ের পর এটি আর্জেন্টিনার টানা চতুর্থ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্কালোনি বলেন, সত্যি বলতে, আমি যেভাবে চেয়েছিলাম দল ঠিক সেভাবে খেলছে কি না, তা নিয়ে আমি মোটেও ভাবছি না। কারণ আজ থেকে দেড় মাস আগে কেউ যদি আমাকে যেকোনো উপায়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ দিত, আমি এক পায়ে রাজি হতাম। আমরা ক্লান্ত কি না, তাতে কোনো তফাত পড়ে না। আমরা প্রস্তুত এবং এই ম্যাচটি নিয়ে আমরা সবাই ভীষণ উত্তেজিত।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে, স্কালোনি খুব পরিপক্বতার সাথে তা এড়িয়ে যান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তাঁর দল রাজনৈতিক ইতিহাসকে একপাশে সরিয়ে রেখে ম্যাচটির শুধু ক্রীড়াঙ্গনের দিকটিতেই মনোনিবেশ করবে।
স্কালোনি বলেন, বাস্তবতা হলো এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ। এত বছর আগে যা ঘটেছিল, তার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমি ফুটবলের সাথে রাজনীতিকে মেলাতে পারি না। ওটা আমাদের ইতিহাসের অত্যন্ত দুঃখজনক একটা অধ্যায় ছিল এবং তা নিয়ে আমাদের এখন আর কিছুই করার নেই। যখন বিশ্বের অন্য কোথাও যুদ্ধ হয় আমরা তার সমালোচনা করি, তাই এই ফুটবল ম্যাচটিকে যুদ্ধের সাথে তুলনা করাটা আমার কাছে পাগলামি মনে হয়। আমরা অবশ্যই সেই যুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করি, তবে এটি শুধুই একটা ফুটবল ম্যাচ; এই দুটি বিষয়কে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।
পর্দার পেছনের সমস্ত সমালোচনা ও মাঠের বাইরের রাজনৈতিক আবেগকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কালোনির দল এখন পাখির চোখ করেছে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডের ফাইনালকে। বুধবার ইংল্যান্ডের বাধা টপকাতে পারলে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে মেসি বাহিনী।