ইংল্যান্ড বধে ফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা

ফুটবল ঈশ্বর মেসির ম্যাজিকে বুধবার রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এক অবিশ্বাস্য রূপকথার জন্ম দিল বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও শেষ ৫ মিনিটের জাদুকরী ফুটবল আর লিওনেল মেসির দুটি অসাধারণ অ্যাসিস্টে ভর করে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা। সব মিলিয়ে সপ্তমবারের মতো ফইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। 

Argentina Win 05
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের চমৎকার গোলে লিড নেয় ১৯৬৬ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। এই এক গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের প্রায় শেষ সময় পর্যন্ত ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল ইংলিশরা। অন্যদিকে, বিশ্বকাপ মুকুট হারানোর শঙ্কায় থাকা আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও সমতায় ফিরতে পারছিল না। আক্রমণভাগের ব্যর্থতা এবং ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের অতিমানবীয় পারফরম্যান্স বারবার হতাশ করছিল আর্জেন্টিনাকে।

Argentina Win 02
অবেশেষে আবারও ত্রাণকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন মেসি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে তাঁর নিখুঁত ক্রস থেকে নিকো গঞ্জালেসের দুর্দান্ত শট বিশ্বমানের দক্ষতায় রুখে দেন পিকফোর্ড। এর ঠিক সাত মিনিট পর লিভারপুল তারকা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার প্রথমে পোস্টে আঘাত করার পর তাঁর ফিরতি শটটিও দারুণভাবে বাঁচিয়ে দেন এভারটনের এই গোলরক্ষক।

Argentina Win 03
তবে ৮৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ডের। ডি-বক্সের বাইরে থেকে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে এনজো ফার্নান্দেজের নেওয়া এক দূরপাল্লার বুলেট গতির শটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। পিকফোর্ডের কেবল চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। এটিরও উৎসব ছিলেন মেসি।

Argentina Win 04
ম্যাচের ৯০ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার আবারও পোস্টে আঘাত করলে হতাশায় পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) পেনাল্টি বক্সের দূর প্রান্তে থাকা লাউতারো মার্টিনেজের উদ্দেশ্যে চমৎকার এক ক্রস বাড়ান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। বদলি হিসেবে নামা লাউতারো নিখুঁত হেডে বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

Argentina Win 06
শেষ মুহূর্তের এই জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে পা রাখে আর্জেন্টিনা। আর এর ফলে দীর্ঘ ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার খুব কাছে গিয়েও হৃদয়ভঙ্গ হলো হ্যারি কেইনদের, অন্যদিকে অনন্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বিশ্বজয়ের মঞ্চে আরও একবার নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল আর্জেন্টিনা।