এবার বিশ্বকাপজয়ীরা পাবেন ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’!

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মধ্যকার মেগা ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে এই ফাইনাল শুরুর আগেই এক চরম বিতর্কিত বোমা ফাটিয়েছে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। বিশ্বজয়ী দল এবার শুধু সোনালী ট্রফি আর সোনার মেডেল নিয়েই বাড়ি ফিরবে না; তাদের হাতে উঠবে ঐতিহ্যবাহী ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ (আংটি)! ফুটবল বিশ্বকাপকে রাতারাতি আমেরিকান রূপ দেয়ার এই নতুন ফন্দি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবল মহলে শুরু হয়ে গেছে জোর গুঞ্জন।

ফিফা জানিয়েছে, ফাইনাল জয়ের পর বিজয়ী দলের জন্য মোট ৩০টি বিশেষভাবে তৈরি আংটি উপহার দেয়া হবে। ম্যাচের ঠিক পরপরই বিজয়ী অধিনায়ক ও কোচের আঙুলে সাময়িক দুটি সংস্করণ পরিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন দলের পরিচয়, লোগো এবং খেলোয়াড়দের আঙুলের মাপ অনুযায়ী কাস্টমাইজড করে আসল আংটিগুলো বুঝিয়ে দেয়া হবে। এই আংটির একপাশে থাকবে বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা, আর অন্যপাশে থাকবে চ্যাম্পিয়ন দলের খুঁটিনাটি তথ্য।

WC Fibal Ring 03
চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই আংটিগুলো মোট ২০২৬টি সীমিত সংস্করণে তৈরি করা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের দেয়ার পর বাকি ১,৯৯৬টি আংটি ফিফার অফিসিয়াল লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য হিসেবে বিশ্বজুড়ে অন্ধ ভক্তদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হবে! আমেরিকার এনএফএল, এনবিএ কিংবা বেসবলের মতো টুর্নামেন্টে আংটি দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও, ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় এমন ঘটনা ইতিহাসে এই প্রথম।

ফুটবলপ্রেমীদের বড় একটা অংশ অবশ্য ফিফার এই ‘আমেরিকান স্টাইল’ মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। শুধু আংটি দেয়াই নয়, রোববারের ফাইনালে আমেরিকার ‘সুপার বোল’-এর আদলে এক বিশাল ‘হাফ-টাইম এন্টারটেইনমেন্ট শো’ বা জমকালো কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে, যা সাধারণ ফুটবল বিশ্বকাপের সংস্কৃতির সাথে একেবারেই খাপ খায় না।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টুর্নামেন্টের খেলার ধরন নিয়ে। উত্তর আমেরিকার তীব্র গরম ও আর্দ্রতার অজুহাতে ফিফা প্রতি ম্যাচের ২২ এবং ৬৭ মিনিটে বাধ্যতামূলক ৩ মিনিটের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা জলপানের বিরতি চালু করেছে। আবহাওয়া যেমনই হোক, এই বিরতি দিতেই হবে! ফলে ৯০ মিনিটের চিরাচরিত ফুটবল ম্যাচটি কার্যত আমেরিকার বাস্কেটবল বা রাগবির মতো চারটি ‘কোয়ার্টারে’ বিভক্ত হয়ে গেছে।

WC Fibal Ring 04
ফিফার এই বাধ্যতামূলক বিরতি নিয়ে খেলোয়াড়, কোচ এবং ভক্তদের ক্ষোভের শেষ নেই। সমালোচকদের দাবি, এই ব্রেক ম্যাচের স্বাভাবিক গতি ও ছন্দকে পুরোপুরি ধ্বংস করছে। উল্টো কোচেরা ম্যাচ চলাকালীন অতিরিক্ত দুটি ‘কৌশলগত টাইম-আউট’ পেয়ে যাচ্ছেন দল গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।

সবচেয়ে রসালো বিষয় হলো, এই মাঝ-মাঠের বিরতিগুলো টিভির পর্দায় কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। ফিফা অবশ্য বুক চাপড়ে দাবি করেছে, বিজ্ঞাপনের লোভে নয় বরং খেলোয়াড়দের কল্যাণের কথা ভেবেই এই নিয়ম।

কিন্তু ফুটবল বোদ্ধারা মুচকি হেসে বলছেন অন্য কথা, খেলোয়াড়দের কল্যাণ উছিলা মাত্র, আসল লক্ষ্য হলো আমেরিকার বাজার থেকে কোটি কোটি ডলার পকেটে পোরা! ফুটবলের চিরায়ত ঐতিহ্য ভেঙে ফিফার এই ‘আমেরিকান জগাখিচুড়ি’ নীতি রোববারের ফাইনালে মেসি কিংবা লামিনে ইয়ামালদের হাত ধরে কতটা জমে ওঠে, এখন সেটাই দেখার বিষয়!