পারেদেসের তাণ্ডব দেখে প্রার্থনায় বসে পড়লেন ইয়ামাল!

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজতেই একদিকে যখন স্প্যানিশ আর্মাডাদের উল্লাস, অন্যদিকে তখন মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল চরম উত্তেজনা ও কুৎসিত হাঙ্গামা! ম্যাচ শেষে কাতার আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পরপরই নিজের মেজাজ পুরোপুরি হারিয়ে বসেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারদেস। সেই ছবি এখন স্যোসাল মিডিয়াতে ভাইরাল।

গাবি’র সাথে হাতাহাতি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে তিনি মাঠের পরিবেশ একমুহূর্তে বিষাক্ত করে তোলেন। তবে এই চরম বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ভিডিও যখন ভাইরাল, ঠিক তখনই ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অনবদ্য ও বৈপরীত্যপূর্ণ দৃশ্য, একদিকে পেছনে পারদেস-গার্সিয়ার তুলকালাম কাণ্ড, আর অন্যদিকে সামনে ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল পরম শান্তিতে মাথা নিচু করে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনায় মগ্ন! ইয়ামালের এই বরফশীতল পরিপক্কতা পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।


এই রাতটি শুধু স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের রাত ছিল না, এটি ছিল বিশ্ব ফুটবলের ব্যাটন হস্তান্তরের এক ঐতিহাসিক প্রতীকী মুহূর্ত। একদা মেসির ছায়ায় থাকা স্টেডিয়ামের রাতটি সাক্ষী রইল ফুটবলের এক কিংবদন্তির আবেগময় বিদায় এবং ১৯-ছুঁইছুঁই লামিন ইয়ামালের রাজকীয় আগমন। পুরো বিশ্বফুটবলের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে ইয়ামাল যেন এই রাতেই নিজের নাম চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করে নিলেন।

ফাইনালে ম্যাচের ১২০ মিনিট জুড়ে দাপট দেখানোর কোনো প্রয়োজন পড়েনি বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের। তিনি মাঠে এসেছেন এবং ঠিক সঠিক সময়ে স্প্যানিশ দক্ষতার চূড়ান্ত প্রদর্শনী ঘটিয়ে সেই মহামূল্যবান গোলটি করেছেন, যা স্পেনকে এনে দিয়েছে তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি!

WC Final 21
তোরেসের এই শটটি মুহূর্তেই সাউথ আফ্রিকা ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই কালজয়ী গোলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে, যে গোল একটি পুরো জাতিকে উল্লাসে ভাসিয়েছিল আর সাধারণ খেলোয়াড়দের বানিয়েছিল অমর কিংবদন্তি।

এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডের মাশুল গুনে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত লড়ে গেলেও, তোরেসের সেই এক আঘাতেই আলবিসেলেস্তেদের সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়।

বিশ্বজয়ের এই পথটি স্পেনের জন্য কোনো গোলাপের বিছানা ছিল না। নিজেদের অ্যাটাকিং ফুটবল আর আত্মবিশ্বাসের জোরে পর্তুগাল, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং সবশেষে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে একের পর এক পরাস্ত করে তবেই ট্রফি ছুঁয়েছে দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

WC Final 31
রেফারির শারীরিক কন্টাক্ট ছাড় দেয়ার সুযোগে ফাইনালটি শুরু থেকেই ছিল তীব্র শারীরিক সংঘাতপূর্ণ। তবে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলাতেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরিসংখ্যানই বলছে স্পেনের আধিপত্যের কথা, অতিরিক্ত সময়ের আগে স্পেনের ১৩টি শটের বিপরীতে আর্জেন্টিনা নিতে পেরেছিল মাত্র ১টি শট! আর্জেন্টিনার বাজপাখি এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ একাই কিছু অসম্ভব সেভ করে স্কালোনির দলকে বাঁচিয়ে না রাখলে ম্যাচের ফয়সালা হয়তো আরও আগেই হয়ে যেত। তবে শেষ হাসি হেসেছেন ফেরান তোরেসই।

একদিকে মাঠে পারদেসের মেজাজ হারানোর চরম ড্রামা, অন্যদিকে এক কোণে ইয়ামালের নীরব প্রার্থনা আর ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক গোল, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ফাইনাল বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম এক ‘সসি’ ও অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে খোদাই হয়ে রইল!