মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে ১-০ গোলে গুঁড়িয়ে দেয়ার পর এবার পুরো স্পেনে শুরু হয়েছে বাঁধভাঙা আনন্দের সুনামি। ২০১০ সালের পর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফি ঘরে এনেছে স্প্যানিশ আর্মাডারা। এই অবিস্মরণীয় জয় উদযাপন করতে পুরো দেশ যেন এখন এক রাতের ঘুম ভুলে এক মহা উৎসবে মেতে উঠেছে। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর ১টায় সোনালী ট্রফি বগলদাবা করে মাদ্রিদের মাটিতে পা রাখছেন বিশ্বজয়ী নায়ক ফেরান তোরেস, রদ্রি ও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
স্বাগতিক রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাতে মাদ্রিদের রাজপথে এখন অন্তত ১০ লাখ সমর্থকের ঢল নামার প্রহর গোনা হচ্ছে! ফুটবল-পাগল দেশটির নতুন বিশ্বজয়ীদের বরণ করে নিতে চলছে রাজকীয় সব প্রস্তুতি। স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বিমানবন্দর থেকে সরাসরি খেলোয়াড়দের অভ্যর্থনা জানাবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সানচেজের বাসভবন মনক্লোয়া প্যালেসের কাছ থেকে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ শুরু হবে বীরদের খোলা ছাদের বাসে রাজকীয় ছাদখোলা প্যারেড।
মাদ্রিদের কেন্দ্রস্থল পেরিয়ে মিছিলটি গিয়ে শেষ হবে ঐতিহ্যবাহী ‘সিবেলেস স্কোয়ারে’, যা স্প্যানিশ জাতীয় দলের যেকোনো ট্রফি জয়ের ঐতিহাসিক মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ২,০৫০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৪০০ জন সিভিল গার্ড সদস্য।
লাল-হলুদ পতাকায় জ্বলছে মাদ্রিদ: রবিবার রাতের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাদ্রিদের প্রতিটি বার, ফ্যান জোন এবং গলি থেকে বের হয়ে আসে হাজার হাজার উল্লসিত জনতা। কলন স্কোয়ারে (Colon Square) জমায়েত হওয়া হাজার হাজার ভক্ত লাল ও হলুদ পতাকায় নিজেদের জড়িয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে আর ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে পুরো গ্রীষ্মের রাত জুড়ে নাচ-গানে মেতে ওঠেন।
আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে চারদিকে ধ্বনিত হতে থাকে এক সুর- ‘কাম্পেওনেস, কাম্পেওনেস!’(আমরাই চ্যাম্পিয়ন, আমরাই চ্যাম্পিয়ন!) এবং ‘কে ভিভা এস্পানিয়া!’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক!)। তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি এক স্বপ্নের মতো অনুভূতি, কারণ ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের বিজয়ের সময় যাদের অনেকেই শিশু ছিল, তারা আজ চোখের সামনে নিজ দেশকে বিশ্বসেরা হতে দেখল!
রাজপ্রাসাদের বিশেষ বার্তা: সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে স্প্যানিশ রয়্যাল হাউস দলটিকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছে, আজ আমরা কেবল একটি শিরোপা উদযাপন করছি না, কাল আমরা এক অমর ফুটবল রূপকথাকে স্মরণ করব। প্রতিটি ম্যাচে অনন্য প্রতিশ্রুতির পুরস্কারই আজকের এই বিশ্বজয়।
২০২৩ সালে নারী ফুটবল দলের বিশ্বজয়, ২০২৪ সালে পুরুষ দলের ইউরো জয় এবং এবার ২০২৬-এ পুরুষদের এই বিশ্বকাপ ট্রফি, সব মিলিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল এখন ট্রফির স্বর্গে ভাসছে! ট্রাম্পের দেশের জাঁকজমক থেকে নিজ দেশের রাজকীয় সংবর্ধনা, লাল-হলুদ পতাকার এই উন্মাদনা বিশ্ব ফুটবলের রাজপথকে এখন পুরো স্প্যানিশ রঙে রঙিন করে রেখেছে!
তথ্যসূত্র: এএফপি