‘স্পেনই সেরা ছিল, হেরে যাওয়াটাও শিখতে হয়’

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই মহাকাব্যিক লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে ১০ জনের দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়েছিল আর্জেন্টিনার প্রতিরোধ। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের এক নিখুঁত লক্ষ্যভেদে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ছিনিয়ে নেয় স্পেন।

তবে শিরোপা হাতছাড়া হলেও হারের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে একদম খোলামনে স্বীকার করে নিলেন স্প্যানিশদের শ্রেষ্ঠত্ব। তবে একই সাথে বুক চিতিয়ে বললেন, তাঁর ছেলেরা মাঠে রক্ত-ঘাম সব উজাড় করে দিয়ে হেরেছে, তাই এই হার নিয়ে কোনো আফসোস বা অভিযোগ নেই!

Argentina coach Scaloni 03
নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচ যুদ্ধ করে ফাইনালের মঞ্চে আসা আর্জেন্টিনা দল অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে যেন সম্পূর্ণ ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছিল। এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় অর্ধে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার পর পাহাড়সম চাপ চেপে বসেছিল আলবিসেলেস্তেদের ওপর।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত স্কালোনি বলেন, আমি ভীষণ দুঃখিত। আমরা কীভাবে এতদূর এসেছি তা নিয়ে অনেক কিছুই বলা যায়, কিন্তু এখন আর সেসবের কোনো অর্থ নেই। আমার খেলোয়াড়দের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, যারা আমাদের আবারও একটি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিয়ে এসেছে। স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে, এটাই নির্মম সত্য।

Argentina coach Scaloni 01
ম্যাচ পরবর্তী অনভিপ্রেত হাঙ্গামা ও উত্তেজনার মাঝেও স্কালোনি নিজের দলের জন্য বড় বার্তা দিয়ে বলেন, বিজয়ের দিনে যেমন আমরা বড় মনের পরিচয় দিই, পরাজয়ের দিনেও আমাদের ঠিক তেমনই হওয়া উচিত। আজকের রাত প্রমাণ করে আমরা হারতেও জানি। আমরা হেরেছি এবং তা মাথা পেতে মেনে নিচ্ছি। ছেলেরা যেভাবে সবটুকু মাঠে ঢেলে দিয়েছে, তা দেশের মানুষের জন্য এক দারুণ দৃষ্টান্ত।

নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফুর বিরল রেকর্ডে ভাগ বসালেন ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি। পুরো টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বের প্রতিটি মিনিটের পাশাপাশি ৮টি গোল করে আর্জেন্টানদের ফাইনালে টেনে তুলেছিলেন তিনি।

হারের পর মেসিকে নিয়ে স্কালোনি বলেন, ৩৯ বছর বয়সে এসে সে যা করেছে, তা কেবলই অবিশ্বাস্য! আশা করি দেশের সবাই তাঁকে নিয়ে গর্বিত হবেন, কারণ ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা ফুটবলার সে। এটা নিয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

Argentina coach Scaloni 04
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই ধরে রাখা আবেগ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসে ৪৮ বছর বয়সী এই মাস্টারমাইন্ডের। কান্নাভেজা চোখে স্কালোনি বলেন, আমি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সাথে কথা বলব। মনে হয় একটু সময় নিয়ে বিষয়গুলো ভাবা দরকার। আমি কখনো ভাবিনি এই মর্যাদার জায়গায় পৌঁছাতে পারব, এটি ছিল এক চমৎকার পথচলা। তবে এই দায়িত্বে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছুর প্রয়োজন হয়, মনকে নতুন করে রিসেট করতে হয়, একদম নতুন করে এমন একটি পরিবার গড়ে তুলতে হয়, যা অত্যন্ত কঠিন কাজ।

কথাগুলো বলতে বলতেই আবেগ সামলাতে না পেরে অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে সংবাদ সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন স্কালোনি। একদিকে মেসির নিস্তব্ধ অশ্রু, অন্যদিকে স্কালোনির এই কান্নাভরা বিদায় সংকেত, সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের রেশ ধরে আর্জেন্টাইন ফুটবলে শুরু হলো এক গভীর ও ট্র্যাজিক পরিবর্তনের অধ্যায়!