নীরবতা ভেঙে যা বললেন লিওনেল মেসি

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে বিষাদময় হারের পর অবশেষে নিরবতা ভাঙলেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে শিরোপা খোয়ানোর পর মাঠে অঝোরে কাঁদতে থাকা মেসি ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের কোনো সাক্ষাৎকার না দিয়েই বের হয়ে গিয়েছিলেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রথম বার্তায় তিনি দেশের ভক্তদের প্রতি যেমন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, তেমনি চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনকে অভিনন্দিত করে নিজের মহানুভবতা আরও একবার প্রমাণ করেছেন!

WC Final 32
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর লেখেন, সবার শুভেচ্ছা ও বার্তার জন্য হৃদয় থেকে ধন্যবাদ। এই কষ্ট অপূরণীয় এবং এই ক্ষত শুকাতে বেশ অনেকটা সময় লাগবে। তবুও আমরা আরও একবার পুরো দেশকে এক সুতোয় গাঁথতে পেরেছি এবং আর্জেন্টাইন হতে পারার চরম গর্ব ভাগ করে নিয়েছি।

পরপর দুবার ফাইনালে ওঠার বিষয়টিকে স্মরণ করিয়ে মেসি বলেন, এখন হয়তো অর্জনের গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাচ্ছে না, তবে এই দল পরপর দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে যেভাবে আমরা ফিরে এসেছি, তা চিরকাল স্মৃতিতে থাকবে। বার্তার শেষ লাইনে কোনো প্রকার ক্ষোভ না রেখে মেসি যোগ করেন, বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আমি স্পেনকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।

Mesi 1
বয়সকে শুধু একটা সংখ্যা বানিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে ৮ ম্যাচে ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। একমাত্র ১০ গোল করা ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে ছাড়া আর কেউ তাঁর ওপরে ছিলেন না। বিশ্বকাপ ইতিহাসে কাফুর (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পর মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ফাইনাল (২০১৪, ২০২২, ২০২৪) খেলার বিরল কীর্তি গড়েছেন তিনি। এছাড়া ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে নামার নতুন রেকর্ডও গড়েন এই মহাতারকা।

মেসির আবেগময় বার্তার পাশাপাশি আরও এক বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের জন্য! আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বিশ্বকাপ শেষে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া স্কালোনি ক্ষোভ ও কষ্টে ভেঙে পড়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’-কে বলেন, "আমি সভাপতির সঙ্গে কথা বলব। নিজেকে রিচার্জ করা ও ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবারো এই ধরণের দল গঠন করা বা বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবতে হবে। প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছে আমার... আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ফাইনাল শেষে দলের অধিকাংশ সদস্য বুয়েনস আইরেসে ফিরে গেলেও মেসি পরিবারকে নিয়ে চলে গেছেন নিজের জন্মশহর রোসারিওতে। সেখান থেকে ছুটি কাটিয়ে নিজের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেবেন তিনি। বিশ্বকাপের এই ট্র্যাজেডি হয়তো মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে, তবে ফাইনালে কান্না আর পরাজয়ের বিষাদের মাঝেও তাঁর এই স্পোর্টিং মানসিকতা আবারও ফুটবলবিশ্বকে মুগ্ধ করল!