বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সর্বেসর্বা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর গদি নিয়ে টানাটানির মাঝেই এবার উদঘাটন হলো এক রগরগে গোপন কেলেঙ্কারি! ফুটবল বিশ্বকাপ ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রির ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে এমনিতেই চরম তোপের মুখে ছিলেন ৫৬ বছর বয়সী এই বিবাহিত প্রভাবশালী ফুটবল কর্তা।
এবার তার সঙ্গে যুক্ত হলো ইউরোপীয় ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা উয়েফায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এক সহকর্মীর সাথে গোপন প্রেমালাপ ও তা ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেনের বিস্ফোরক সব তথ্য।
ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনোর সাবেক এক প্রেমিকার মুখ বন্ধ রাখতে এবং তাঁকে উয়েফা থেকে সসম্মানে বিদায় করতে ছয় অঙ্কের মোটা অঙ্কের ‘সেভারেন্স পেমেন্ট’ বা বিদায়ী অর্থ দেওয়া হয়েছিল!
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইনফান্তিনো যখন উয়েফার জেনারেটর তথা জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন, তখন এক নারী সহকর্মীর সাথে রোমান্টিক প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বিবাহিত ইনফান্তিনো। পরবর্তীতে সেই সম্পর্ক ও জলঘোলা ঘটনা গোপন রাখতেই নাকি উয়েফার কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা ওই নারীকে দেওয়া হয়।
উয়েফা কর্তৃপক্ষ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওই নারীকে মোটা অঙ্কের বিদায়ী ভাতা দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, "সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিদায়ী ভাতা দেওয়া হয়েছিল" এবং সেই অর্থে একটি স্থানীয় বিজনেস স্কুলে তাঁর সম্মানজনক এমবিএ কোর্সের সম্পূর্ণ খরচও বহন করা হয়েছিল। যদিও উয়েফার দাবি, তৎকালীন নিয়ম মেনেই সমস্ত অর্থ দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই ঘটনার পর এখন তাদের নীতিমালার কড়াকড়ি অনেক বাড়ানো হয়েছে।
গোপন অভিসার ও উয়েফার অর্থ অপব্যবহারের এই মুখরোচক অভিযোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই আত্মপক্ষ সমর্থনে নেমেছে ফিফা প্রধানের পিআর টিম। ফিফার এক মুখপাত্র টেলিগ্রাফকে জানান, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই ভিত্তিহীন অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন। কোনো অনিয়ম বা নিয়ম ভঙ্গের ইঙ্গিতের দাবি সম্পূর্ণ মানহানিকর।
মুখপাত্র আরও দাবি করেন যে, উয়েফা বা ফিফার কোনো কর্মী কখনোই ইনফান্তিনোর আচরণ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেননি, কারণ এমন ঘটনা কখনোই ঘটেনি।
এমনিতেই বিশ্বকাপ ফুটবলকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ ঝুলন্ত সুতোয় আটকে ছিল। যদিও বুধবার মরক্কোয় আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে ফিফার জ্যেষ্ঠ কর্তাদের সমর্থন নিয়ে এবং নিজের ‘ভুলের’ জন্য ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ এড়াতে সক্ষম হন তিনি, তবুও ক্ষোভ থামেনি।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলো ইতোমধ্যেই ফিফার ইভেন্টগুলো বয়কট করার হুমকি দিয়ে রেখেছে। তবে দক্ষিণ আমেরিকান কনফেডারেশন, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন, এবং বিশ্বকাপ আয়োজন ও রানার্সআপ দেশ আর্জেন্টিনা ইনফান্তিনোর পেছনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে একের পর এক জটিলতায় চটে থাকা ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোর হাতে এখন ইনফান্তিনোর এই গোপন প্রেম ও অর্থ কেলেঙ্কারির রসালো গল্প এক নতুন মরণাস্ত্র হয়ে উঠেছে। ফিফা সভাপতির লাল-নীল সিংহাসন শেষ পর্যন্ত টেকে কি না, ফুটবল দুনিয়া এখন সেটির দিকেই নজর রাখছে!
তথ্যসূত্র: বিবিসি