ইংলিশ লিগে রাজত্ব ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্সেনাল!

দীর্ঘ ২২ বছরের ক্ষুধার্ত অপেক্ষার পর অবশেষে গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল আর্সেনাল। তবে ইতিহাস বলছে, প্রিমিয়ার লিগের মসনদে বসা যতটা কঠিন, সেই মুকুট ধরে রাখা তারচেয়েও হাজার গুণ বেশি কঠিন! গানার্সদের মাস্টারমাইন্ড মিকেল আরতেতার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, এই সাফল্যকে শুধু একবারের অলৌকিক ঘটনা না বানিয়ে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আজ পর্যন্ত মাত্র তিনজন কিংবদন্তি কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, হোসে মরিনহো এবং পেপ গার্দিওলা শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছেন। ৪৪ বছর বয়সী আরতেতা এখন সেই অভিজাত তালিকায় নাম লেখানোর লড়াইয়ে নেমেছেন। তবে এবার আর তিনি শিকারি নন, বরং প্রিমিয়ার লিগের বাকি পরাশক্তিদের এক নম্বর লক্ষ্যবস্তু!

Mikel Arteta
লিগের দীর্ঘতম কোচিং ও গানার্সদের আসল শক্তি

৪৪ বছর বয়সেও আরতেতাকে অনেকের কাছে নবীন মনে হতে পারে, তবে গানার্সদের ডাগআউটে ৩৫০টিরও বেশি ম্যাচ পরিচালনা করে তিনি এখন প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী কোচ। যেখানে ‘বিগ সিক্স’-এর অন্য ক্লাবগুলোতে কোচের পদটি রীতিমতো মিউজিক্যাল চেয়ারে পরিণত হয়েছে, সেখানে আর্সেনালের স্থায়িত্বই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল এবং চেলসি- তিন ক্লাবই এবার নতুন কোচের অধীনে মাঠে নামছে। অন্যদিকে টটেনহ্যাম ও ম্যান ইউও নতুন কোচের অধীনে নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত। এই অস্থিরতার মাঝে আরতেতার ওপর আর্সেনাল বোর্ডের অনড় বিশ্বাসই তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘স্বর্গীয় লিগ ট্রফি’ এনে দিয়েছিল।

নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে আরতেতা সোজাসাপ্টা বলেছেন, আমাদের ওপর দায়িত্ব ও জেদ এখন আগের চেয়েও বেশি। আমাদের সক্ষমতা আছে যেকোনো দলকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার, এখন শুধু আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা এই সর্বোচ্চ স্তরেরই স্থায়ী বাসিন্দা।

Bruno Guimaraes
৭৫ মিলিয়নের
'যোদ্ধা' গিমারেস ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ঝাঁজ

আর্সেনাল গত মৌসুমে কেবল ঘরোয়া লিগেই চমক দেখায়নি, বরং ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও উঠেছিল। ফাইনালে পিএসজির কাছে ট্রাইবেকারে হারলেও গানার্সরা বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা ইউরোপের সেরা এলিটদের একজন।

শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে অলস বসে থাকার পাত্র নন আরতেতা। নিউক্যাসেল ইউনাইটেড থেকে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ ডলার) খরচ করে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারেসকে দলে ভিড়িয়ে গানার্সরা তাদের ক্ষমতার জানান দিয়েছে। গিমারেস সম্পর্কে আরতেতার ভাষায়, সে এক খাঁটি যোদ্ধা! তার ক্যারিশমা, নেতৃত্ব আর মানসিকতা দলের ভেতর নতুন আগুন জ্বালিয়ে দেবে এবং সবাইকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে ধাক্কা দেবে।

পাশাপাশি গ্রিক উইঙ্গার ক্রিস্টোস জোলিস প্রাক-মৌসুমের মাত্র তিন ম্যাচে তিনটি গোলে ভূমিকা রেখে আরতেতার মন জয় করে নিয়েছেন।

আর্সেনালের পরিবেশ থেকে এখন হারের ভয় উবে গিয়ে স্থান করে নিয়েছে সেরা হওয়ার ক্ষুধা। আরতেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই, তিনি শুধু আর্সেনালের অবস্থানই পরিবর্তন করেননি, পরিবর্তন করেছেন ক্লাবটির ডিএনএ। গানার্সরা এখন আর কারও পিছু ধাওয়া করছে না, বরং তারাই লিগের নতুন মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিচ্ছে!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স