স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের তপ্ত আবহে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে চেলসির ৩-১ ব্যবধানের চোখধাঁধানো জয় ও মরগান রজার্সের অভিষেকেই গোল করার রোমাঞ্চ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে আর্জেন্টাইন তারকা এঞ্জো ফার্নান্দেসকে ঘিরে তৈরি হওয়া তোলপাড় ও নাটকে।
ক্লাবের নতুন ম্যানেজার জাভি আলোনসোর ভবিষ্যৎ ব্লু-প্রিন্ট এবং জোয়াও পেদ্রোর জোড়া গোলের চমকপ্রদ প্রাক-মৌসুম ফর্মের মাঝেও গ্যালারি জুড়ে অনুরাগী মহলের মূল আকর্ষণ আর ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার।
মূলত চেলসি নির্ধারিত দলবদলের ডেডলাইন পার হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাঠে নামতেই ক্লাবের সমর্থকদের এক বড় অংশের তীব্র কটাক্ষ ও দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয় তাকে।
চলতি দলবদল মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমাত মরিয়া হয়ে ওঠা এঞ্জোর প্রতি স্প্যানিশ জায়ান্টদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলা এবং পরবর্তীতে ম্যানচেস্টার সিটির সাথে দরকষাকষিতে চেলসির ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডের মূল্যায়নের অমিল হওয়ার পর, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ভক্তদের চোখে তিনি এখন এক ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেই চিহ্নিত হচ্ছেন।
ম্যাচ শুরুর ৪৫ মিনিট আগে যখন স্টেডিয়ামে প্লেয়ারদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই গ্যালারির একপাশ থেকে ভেসে আসে দুয়োধ্বনির চিৎকার। পরিস্থিতি এড়াতে স্টেডিয়ামের ঘোষক পরবর্তীতে বদলি খেলোয়াড়দের নাম পড়া বন্ধ রাখলেও, খেলার ৬২তম মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেস বদলি হিসেবে মাঠে নামতেই সমর্থকদের সেই ক্ষোভ ও দুয়োধ্বনি সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।
অবশ্য গ্যালারিতে চেলসি সমর্থকদের মধ্যে এক স্পষ্ট বিভাজনও দেখা যায়; একাংশ যখন তাকে অপমান করতে ব্যস্ত, অন্য অংশ তখন তার নাম ধরে স্লোগান দিয়ে ভালোবাসার বার্তা ছড়াচ্ছিল। এমনকি ম্যানেজার শাবি আলোনসো ও চেলসির শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিতে মাঠ ছাড়ার সময় অধিনায়ক রিস জেমস স্বাভাবিক নিয়মেই সহ-অধিনায়ক এঞ্জোর হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ডটি তুলে দেন।
মাঠে নামার পর তার প্রতিটা বল স্পর্শ করার মুহূর্তে যেমন সিটি ও দুয়োর এক বিষাক্ত মিশেল ভেসে এসেছে, তেমনি প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ঘটনাতেও গ্যালারির একাংশকে উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে।
এঞ্জোর কোটি টাকার বেতন নিয়ে এজেন্ট হাভিয়ের পাস্তোরের বিতর্কিত মন্তব্য এবং প্রকাশ্যে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার জোরালো আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করায় চেলসি সমর্থকদের ক্ষোভের আগুন যে সহসা নিভছে না, তা রবিবারের এই ড্রামাটিক দৃশ্যেই স্পষ্ট।
তবে শুধু চেলসি সমর্থকরাই নন, আগামী দিনে প্রিমিয়ার লিগের বাকি ১৯টি ক্লাবের সমর্থকদের কাছেও এঞ্জো ফার্নান্দেস কীভাবে অভ্যর্থনা পান তা হবে দেখার মতো বিষয়। কারণ গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর উসকানিমূলক উদযাপন ও কটাক্ষ ইংলিশ ফুটবলপ্রেমীদের বুকে এখনও কাটা হয়ে বিধে আছে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বরের আসল দলবদলের ডেডলাইন পার হওয়ার আগেই ম্যানচেস্টার সিটি তাদের প্রাক্তন গুরু এঞ্জো মারেস্কার সাথে এঞ্জোর পুনর্মিলনী ঘটাতে আবার চেষ্টা চালায় নাকি চেলসির জার্সিতেই এই বিষাক্ত বাতাস তিনি সামাল দেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো ফুটবল বিশ্ব।
তথ্যসূত্র: বিবিসি