মাঠে দুর্দান্ত পারফর্ম করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকলেও মাঠের বাইরের অপরাধে এবার মারাত্মক ধসের মুখে ইউরোপীয় ফুটবলের পরাশক্তি ম্যানচেস্টার সিটি!
দীর্ঘ তদন্তের পর প্রিমিয়ার লিগের নিরপেক্ষ স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল বা কমিশন ম্যানচেস্টার সিটিকে ১১৪টি আর্থিক দুর্নীতি ও নিয়ম ভঙ্গের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছে। ২০১৩ সাল থেকে শুরু হওয়া ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও নজিরবিহীন এই আর্থিক জালিয়াতির মামলার রায় প্রকাশ্যে আসতেই পুরো ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় পড়ে গেছে।

যদিও শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল, কিন্তু নিরপেক্ষ ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘ শুনানি ও নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে ১১৪টি মারাত্মক নিয়ম ভঙ্গের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। তদন্তের আওতায় থাকা সময়টিতে ম্যান সিটি ইংল্যান্ড এবং ইউরোপের শীর্ষ শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ক্লাবের ভুল ও ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি, খেলোয়াড় ও কোচদের বেতন গোপনে প্রদান, আর্থিক ফেয়ার প্লে নীতি অমান্য করা এবং প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করা। উল্লেখ্য, পেপ গার্দিওলার সেই স্বর্ণালী যুগে এসব অপরাধ সংগঠিত হলেও বর্তমানে ক্লাবটির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এনজো মারেস্কা, আর দলে খেলছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও জেরোনিমো রুলির মতো তারকারা।

১১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এখন ফুটবল দুনিয়ার চোখ প্রিমিয়ার লিগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। সিটিকে ঠিক কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে গুঞ্জন উঠেছে তারা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
বিশাল অঙ্কের জরিমানা, বিপুল পরিমাণ পয়েন্ট কর্তন থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটিকে সরাসরি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার করার অপশনও টেবিল রয়েছে। মাঠে শতভাগ সাফল্য সত্ত্বেও ক্লাবের এই নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারি ম্যান সিটির ট্রফি ও অর্জনের ওপর বিরাট কালিমার দাগ লেপে দিল!
