গত মে মাসে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্মৃতি তখনও তাজা! চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাত্র ৮৯ দিন পর নতুন মৌসুমে আবারও সেই একই আগ্রাসী রূপ নিয়ে মাঠে নামল গানাররা। মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচেই নবাগত কভেন্ট্রি সিটিকে ৩-০ গোলে রীতিমতো চূর্ণবিচূর্ণ করে শিরোপা ধরে রাখার কড়া বার্তা দিয়ে রাখল মিকেল আর্টেটার শীর্ষ দল। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে ৬০ হাজার লাল-সাদা সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে আর্সেনালের ফুটবলের সামনে কভেন্ট্রি শুধুই দিশেহারা পথিকের ভূমিকা পালন করল।
ম্যাচ শুরুর মিনিটেই নতুন গ্রিক উইঙ্গার ক্রিস্টোস জোলিস সুযোগ তৈরি করে কভেন্ট্রি রক্ষণে ভয় ধরিয়ে দেন। তবে স্বাগতিকদের গোলের খাতা খুলতে বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের ১৫ মিনিটে কভেন্ট্রি ডিফেন্ডার মিলান ভ্যান এউইকের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে রিকার্ডো ক্যালাফিওরির বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে আর্সেনালকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন কাই হাভার্টজ।
গোলের নেশায় বুঁদ আর্সেনাল ২৩ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেয়। ডেক্লান রাইস ও মার্টিন ওডেগার্ডের দারুণ সমন্বয়ের পর জোলিসের দুর্দান্ত ক্রস কভেন্ট্রি গোলরক্ষক কার্ল রাশওয়ার্থ ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হলে ফাঁকায় বল পান বুকায়ো সাকা। সহজ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-০ করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি এই ইংলিশ তারকা।
বিরতির পরও আর্সেনালের আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৯তম মিনিটে বুকায়ো সাকা ও বেন হোয়াইটের চোখ ধাঁধানো বোঝাপড়া থেকে কভেন্ট্রির রক্ষণভাগ তছনছ করে দেন আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। তাঁর ১০ গজ দূর থেকে নেয়া কিছুটা ডিফ্লেক্টেড শট কভেন্ট্রি গোলরক্ষকের হাত গলে জালে জড়ালে ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত হয়।
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে ওডেগার্ড বলেন, মৌসুমের প্রথম ম্যাচ সবসময় কিছুটা উত্তেজনার হয়। তারা শুরুতেই বেশ শক্ত লড়াই দিয়েছিল, তবে পরবর্তীতে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিই। তবে আমাদের আরও গোল করার সুযোগ ছিল।
২০০১ সালের পর এবারই প্রথম টপ-ফ্লাইট প্রিমিয়ার লিগে ফেরার সুযোগ পায় ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের দল কভেন্ট্রি সিটির। কিন্তু আর্সেনালের ক্ষুরধার প্রেসিং ও পাওয়ার ফুটবলের সামনে দীর্ঘ দুই দশক পর ফিরে আসার আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো।
অন্য দিকে, ১৯৩০ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত টানা দ্বিতীয়বার প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি ধরে রাখতে পারেনি আর্সেনাল। তবে এবার আর্টেটার নতুন দল যেন আরও ক্ষুধার্ত। ম্যাচ শুরুর আগেই অ্যাস্টন ভিলা থেকে ৫১ মিলিয়ন পাউন্ডে দলভুক্ত করা ডিফেন্ডার এযরি কনসাকে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ম্যান সিটির বিপক্ষে কম্যুনিটি শিল্ডে চোট পাওয়া ব্রুনো গুইমারেসের অভাব বুঝতে দেননি নতুন গ্রিক সেনসেশন জোলিস। এই দাপুটে জয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে দুর্দান্ত শুভসূচনা করল আর্সেনাল।
তথ্যসূত্র: স্কাই স্পোর্টস