সেন্ট জেমস পার্কে রোববার রাতে দুই ক্লাবের কিংবদন্তি প্রয়াত কেভিন কিগানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের শেষটা হলো ঠিক কিগানেরই সেই অল-আউট অ্যাটাকিং ও শ্বাসরুদ্ধকর ড্রামার ঢঙে! অতিরিক্ত সময়ে ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের বরফশীতল মাথার পেনাল্টি গোলে পিছিয়ে পড়েও নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মুখ থেকে ২-২ গোলের নাটকীয় ড্র ছিনিয়ে এনেছে লিভারপুল।
জুলাই মাসে ৭৫ বছর বয়সে মারা যাওয়া দুই ক্লাবেরই মহাতারকা কিগানকে শ্রদ্ধা জানাতে গ্যালারিতে ছিলেন অ্যালান শিয়ারার, লেস ফার্ডিন্যান্ড, পিটার বিয়ার্ডসলি ও কেনি ডালগ্লিশের মতো সাবেক রথী-মহারথীরা। খেলা শুরুর মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় সেই মহাতারকাদের উদযাপনের সুযোগ করে দেন অ্যান্থনি ইলঙ্গা। এক বিদ্যুৎগতির পাল্টা আক্রমণে বক্সে ঢুকে দূরপাল্লার শটে গোল করে নিউক্যাসেলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৫৫ মিনিটে) দৃশ্যপট বদলে দেন লিভারপুলের কোডি গাকপো। বক্সের বাইরে থেকে বল পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে গিয়ে নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে অলরেডদের সমতায় ফেরান তিনি। নিউক্যাসেলের রক্ষণভাগের এই ভুল যেন কিগানের সময়ের দুর্বল ডিফেন্সকেই মনে করিয়ে দিচ্ছিল!
তবে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে সেন্ট জেমস পার্ককে আবার উল্লাসে ভাসান জো উইলক। এক বাঁকানো শটে গোল করে নিউক্যাসেলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে স্বাগতিকরা।
অতিরিক্ত সময়ে নাটকের চূড়ান্ত অধ্যায় রচিত হয়। নিউক্যাসেল ডিফেন্ডার লুইস হল বক্সে ঢুকতে যাওয়া লিভারপুলের বদলি ফরোয়ার্ড ভিক্টর মুনিয়োজকে অবৈধভাবে ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। গ্যালারির প্রচণ্ড শিস দেয়ার মুখে দাঁড়িয়ে অনেক দর্শক ভেবেছিলেন প্রায় এক বছর আগে নিউক্যাসেল ছেড়ে লিভারপুলে আসা আলেক্সান্ডার ইসাক শট নেবেন, কিন্তু দায়িত্ব নেন ডোমিনিক সোবোসলাই। নিখুঁত শটে বল টপ কর্নারে পাঠিয়ে সেন্ট জেমস পার্কের স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন তিনি।
ফুটবলের নিখাদ উন্মাদনা আর রোমাঞ্চে ভরা এই ২-২ গোলের ম্যাচটি যেন সত্যিই দুই ক্লাবের ঐতিহাসিক নায়ক কেভিন কিগানের দূরন্ত ও নাটকীয় ফুটবল দর্শনের এক অনন্য ট্রিব্যুট হয়ে রইল।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স