ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সিতে শততম গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করে ফুটবল বিশ্বের রাজপুত্র লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স তাঁর জন্য শুধুই একটা সংখ্যা!
বুধবার রাতে নিউ স্টেডিয়ামে 'কাম্পিওনেস কাপ'-এর জমজমাট ফাইনালে মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে ইন্টার মায়ামি।
ডিফেন্ডারকে টেক্কা দিয়ে মেসির সেই চোখজুড়ানো হেডের গোলেই জয়ের দিশা পায় মায়ামি, আর শেষ দিকে কাসেমিরোর দুর্দান্ত আরেকটি হেডে ট্রফি নিশ্চিত হয়ে যায় নতুন কোচ ক্রিশ্চিয়ান ‘কিলি’ গঞ্জালেসের।
আর্জেন্টিনা থেকে উড়ে এসে মাত্র একদিন আগেই দলের অনুশীলনে যোগ দেয়া গঞ্জালেসের মায়ামি ক্যারিয়ারের শুরুটা হলো ঠিক রূপকথার মতো। কাজের অনুমতির জটিলতা কাটিয়ে দায়িত্ব পেয়েই ট্রফি হাতে তোলার পর রোমাঞ্চ চেপে রাখতে পারেননি এই নতুন কোচ।
সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, মাঠে নামার আগেই মেসি নাকি তাঁকে ট্রফি জেতানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সেই কথা তিনি অক্ষরে অক্ষরে রেখেছেন। এমনকি সতীর্থ রদ্রিগো দি পলও মেসির এই অতিমানবীয় কীর্তিকে নিয়ম বানিয়ে ফেলাকে বিনম্র শ্রদ্ধায় উদযাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্সেলোনা কিংবা আর্জেন্টিনা দলের চেয়েও দ্রুততম সময়ে মায়ামির হয়ে শততম গোলের এই ইতিহাস গড়েছেন এলএমটেন। বার্সার হয়ে ১৮৮ এবং আর্জেন্টিনার হয়ে ১৭৪ ম্যাচ লাগলেও মায়ামির গোলাপি জার্সিতে মাত্র ১১৫ ম্যাচেই ১০০ গোলের এই ম্যাজিক নম্বর ছুয়েছেন তিনি।
যে মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে ২০১৩ সালে মায়ামির হয়ে অভিষেক ম্যাচে নিজের প্রথম গোলটি করেছিলেন, ঠিক তাদের বিপক্ষেই ১০০তম গোলের এই বৃত্ত পূরণ করা যেন এক নিখুঁত নাটকের স্ক্রিপ্ট!
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পর থেকেই মায়ামির ভাগ্য একাই বদলে দিয়েছেন এই মহাতারকা। একের পর এক লিগস কাপ, সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জেতানোর পর পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর মোট গোল সংখ্যা এখন ৯২৯।
এই মৌসুমেও ২২ ম্যাচে ১৯ গোল নিয়ে এমএলএসের শীর্ষ গোলদাতার স্থানটি নিজের দখলে রেখেছেন তিনি। মেসির এই গোলমেশিন অবতার আর মায়ামির ট্রফি জয়ের ক্ষুধা দেখে এখন স্পষ্ট, প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য রাতে ঘুমোনো একরকম অসম্ভবই হয়ে দাঁড়িয়েছে!
তথ্যসূত্র: ইএসপিএন