মেক্সিকান ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামির প্রথমবার 'কাম্পিওনেস কাপ' জয়ের রাতে এক রাজকীয় কীর্তি গড়েছেন লিওনেল মেসি। ক্লাবটির হয়ে নিজের ১০০তম গোলটি উদযাপন করার পর এই ৩৯ বছর বয়সী মহাতারকার হাতে নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর তুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক ডেভিড বেকহাম।
গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণার পর এবং ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হৃদয়ভাঙা হারের দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে মেসি এ বছরের প্রথম ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরলেন। মায়ামির নতুন কোচ ক্রিশ্চিয়ান "কিলি" গঞ্জালেসের প্রথম ম্যাচেই এই স্মরণীয় ট্রফি জয় যেন এক নিখুঁত রূপকথার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচের ২৪ মিনিটে ৩৯ বছর বয়সী মেসি প্রতিপক্ষের লম্বা ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে এক অসাধারণ ডাইভিং হেডে গোল করে সমর্থকদের তাক লাগিয়ে দেন। বিরতির পর মেসির আরও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও, ৮১ মিনিটে তাঁর নেয়া নিখুঁত কর্নার থেকে দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ২-০ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরো।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে গ্রীষ্মে মায়ামিতে যোগ দেওয়া কাসেমিরো ম্যাচ শেষে সতীর্থের বন্দনায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, মেসির মতো কিংবদন্তির সঙ্গে খেলা উপভোগ করা উচিত, কারণ ফুটবল বিশ্বে এমন জাদু প্রতিদিন দেখা যায় না। ক্রুজ আজুল কয়েকবার ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও মায়ামির গোলরক্ষক ডেন সেন্ট ক্লেয়ারের দেয়াল ভাঙতে পারেনি।
বেকহাম ম্যাচ শেষে মেসির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বয়সে এসেও বিশ্বকাপে যে মানের ফুটবল মেসি খেলেছেন এবং এমএলএসে যেভাবে গোল বানিয়ে ও করে দলকে জেতাচ্ছেন, তাতে অষ্টম ব্যালন ডি'অরজয়ী এই জাদুকরের হাতেই নবমবারের মতো বর্ষসেরার পুরস্কার ওঠা উচিত।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের গুঞ্জন থাকলেও আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে শেষবারের মতো দেখা যাবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পেশাদার ক্যারিয়ারের শেষ বেলাতেও মেসির এমন রাজকীয় তেজ দেখে নিশ্চিতভাবেই সিআরসেভেন ভক্তদের বুকে কাঁপন ধরতে বাধ্য!
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা