২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেনে গৃহযুদ্ধ!

২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের দৌড়টি এখন শুধু একটি খেলার মাঠের সিদ্ধান্ত নয়, রীতিমতো এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং মরক্কোর উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘গ্র্যান্ড স্টাড হাসান ২’ যখন এই দৌড়ের প্রধান দাবিদার বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই তাতে সশব্দে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা!

কাতালান পরাশক্তিদের সহ-সভাপতি অ্যান্টোনিও এসকুদেরো বুক ঠুকে সোজা ভাষায় জানিয়েছেন, পুনর্নির্মাণাধীন ‘স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু’-তেই বসতে যাচ্ছে ফুটবলের এই মহামিলনমেলা।

নবনির্মিত স্পেনের ঐতিহ্যবাহী রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ছবি: সংগৃহীত
স্পেন এবং মরক্কোর মধ্যে যখন বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে চরম মনস্তাত্ত্বিক লড়াই চলছে, তখন বার্সেলোনার এই হঠাৎ হুঙ্কার মাদ্রিদ শিবিরের ঘুম হারাম করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বার্সেলোনা তাদের স্বপ্নের ‘এসপাই বার্সা’ প্রকল্পের আওতায় ক্যাম্প ন্যু-কে এক আধুনিক ফুটবল স্বর্গে রূপান্তর করছে, যেখানে থাকছে বিশাল দর্শক ধারণক্ষমতা এবং চোখধাঁধানো সব ভিআইপি আতিথেয়তা। ক্যাদেনা সিরে রেডিও’র ‘আকি জিরোনা’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে এসকুদেরো একদম সোজা সাপ্টা ভাষায় বলেন, বার্সেলোনা শুধু দর কষাকষিতে নেই, ফিফার জন্য তারাই এখন সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত এবং সেরা পছন্দ।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ক্যাম্প ন্যু-তে অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন এই কাতালান কর্মকর্তা যেন প্রতিপক্ষকে একহাত দেখে নেওয়ার মেজাজেই জবাব দেন। স্প্যানিশ পত্রিকা মুন্দো দেপোর্তিভোর র তথ্যমতে এসকুদেরো দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, আমরা এটা প্রচণ্ডভাবে চাই এবং আমি মনে করি এটাই হতে যাচ্ছে। বিশ্বের ক্রীড়া কর্তারা আমাদের সাথেই আছেন। আমরা যে অভাবনীয় ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছি, তাতে একটি বিশ্বমানের স্টেডিয়াম এখন আমাদের হাতে। এটাই তো উপযুক্ত সময়!

বার্সেলোনার পুনর্নির্মাণাধীন ‘স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু’ স্টেডিয়াম ছবি: সংগৃহীত
এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি; আত্মবিশ্বাসের সুর আরও একধাপ চড়িয়ে যোগ করেন, ক্যাম্প ন্যু’তে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা এখন আকাশে ছোঁয়া, অত্যন্ত প্রবল!"

স্টেডিয়ামের এই মেগা প্রজেক্টের খরচের বহর দেখে আবার অনেকে গুজব রটিয়েছিলেন, ক্লাবের সাধারণ সদস্য ও সমর্থকদের ওপর টিকিটের দাম বাড়িয়ে বিশাল বোঝা চাপানো হবে। তবে এই গুঞ্জনের বেলুন এক চোটেই ফুটো করে দিয়েছেন এসকুদেরো। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়ে দেন, টিকিট বা সিজন-পাসের দাম বাড়ানোর কোন প্রশ্নই ওঠে না। সভাপতির টেবিলে এমন কোনো আলোচনার ফাইলই ওঠেনি, তাই ভক্তদের চিন্তার কিছু নেই।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এখন তৈরি হয়েছে এক ত্রিভূজ যুদ্ধ। আফ্রিকান মহাদেশে দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নেওয়ার পণ করে বসে আছে মরক্কো, ওদিকে ঐতিহ্যের দম্ভ দেখাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ। কিন্তু বার্সেলোনা ও কাতালান সরকারের এই হঠাৎ যৌথ আক্রমণে স্পেনের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ এবং ফিফার সমীকরণ—দুটোই এখন ভীষণভাবে ওলটপালট হয়ে যাওয়ার মুখে!

তথ্যসূত্র: গোল ডটকম