স্প্যানিশ সেকেন্ড ডিভিশনের ম্যাচে মাঠে খেলার ছলে ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় টেনেরিফ ফরোয়ার্ড জেসুস দে মিগুয়েলের অকাল মৃত্যুর পর গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক জেসুস ওউওনো। এই বেদনাদায়ক ট্র্যাজেডির মুখে নিজেকে সামলাতে না পেরে ২৫ বছর বয়সী এই গিনিয়ান গোলরক্ষক বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বুধবার ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওউওনো জানান, তিনি এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও নির্মম দিনগুলো পার করছেন।
সোমবারের সেই অভিশপ্ত ম্যাচে ২-২ সমতায় খেলা চলাকালে ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে একটি লং বল ক্লিয়ার করতে নিজের বক্স ছেড়ে সেন্ট্রাল সার্কেলের দিকে ছুটে এসেছিলেন গোলরক্ষক ওউওনো। ঠিক তখনই ৩০ বছর বয়সী টেনেরিফ ফরোয়ার্ড দে মিগুয়েলের সঙ্গে তাঁর একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও মারাত্মক সংঘর্ষ ঘটে। ওউওনোর হাঁটু লেগে মাঠে অচেতন হয়ে পড়েন দে মিগুয়েল। মাঠেই জরুরি চিকিৎসা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত একটি সন্তানের জনক এই ফুটবলারকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া ওউওনো এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দিয়েছেন।

বুধবার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ওউওনো বলেন, ভাষায় প্রকাশ করার মতো কোনো শব্দ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। যা ঘটে গেছে, তা মানিয়া নেওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন। জেসুসকে হারানোর গভীর কষ্ট আমি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছি। আমি কেবল তাঁর আত্মা, তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং তাঁকে ভালোবাসা প্রতিটি মানুষের কথা ভাবছি। আমি জানি সামনে অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, এবং যা আসবে আমি তা সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিয়ে মোকাবিলা করব। কিন্তু এই মুহূর্তে, সত্যি বলতে, জেসুস এবং আমাদের এই অপার যন্ত্রণা ছাড়া আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে পারছি না। শান্তিতে থেকো, জেসুস।

আন্দোরার ডিফেন্ডার লাউতারো স্পাতজ ওউওনোর পক্ষে দাঁড়িয়ে জানান, ওউওনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করার মতো মানুষ নন। তিনি বলেন, ফুটবলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু কেউ কি কখনো কল্পনা করতে পেরেছিল যে এমন একটি ঘটনা এত বড় এক ট্র্যাজেডিতে গিয়ে শেষ হবে?" গিনি নিরক্ষীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিও গোলরক্ষক ওউওনোর এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে পূর্ণ মানবিক সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
এক প্রাকৃতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণে স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী স্থানীয় পুলিশ ইতোমধ্যে একটি রুটিন তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে, খেলোয়াড়কে হারিয়ে ছয় দিনের আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করছে টেনেরিফ ক্লাব। শনিবার সমর্থকদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দিতে স্টেডিয়ামের দরজা উন্মুক্ত রাখা হবে এবং টলেডোতে হতে যাওয়া শেষকৃত্যে অংশ নেবেন ক্লাবের সর্বস্তরের সদস্যরা।

নিহত দে মিগুয়েলের স্মরণে চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় ফুটবলের সব ম্যাচে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হচ্ছে এবং আগামী সপ্তাহের নির্ধারিত ম্যাচগুলো স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
