ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত রক্তগরম করা দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে সফরসূচির একমাত্র জয়টি তুলে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে ৯৫ মিনিটে গোল করে কোনোরকমে ১-১ ড্রয়ে মান বাঁচানো কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা মঙ্গলবার ম্যাচের শুরুতেই ৩ মিনিটের মাথায় ভ্যান্ডারসনের দৃষ্টিনন্দন শটে এগিয়ে যায়।
তবে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র ছিল না। দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে খেলা জমিয়ে তুলে অ্যালেসান্দ্রো চিরকাতির ফ্লিক এবং কনর মেটক্যাফের দূরপাল্লার রকেট শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিল শিবিরে রীতিমতো কাঁপন ধরিয়ে দেয় অজিরা।
প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ডি-বক্সে ডানিলো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে ২-২ সমতায় ফেরান অধিনায়ক রাফিনহা। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর ১৫তম গোল হলেও এই আনন্দের মাঝেই নেমে আসে চরম দুঃসংবাদ।
ডান পায়ে অস্বস্তি অনুভব করায় প্রথমার্ধের পরেই মাঠ ছাড়তে হয় এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডকে, যা আগে থেকেই হ্যামস্ট্রিং ও উরুর ইনজুরিতে ভোগা রাফিনহাকে নিয়ে ম্যানেজার আনচেলত্তির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে রাফিনহার বদলি হিসেবে নামা তরুণ এন্দ্রিক মাঠে নামতেই অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার হ্যারি সাউটারের সাথে তুমুল ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন, যা ম্যাচের আমেজকে একপর্যায়ে মারামারির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।
তবে মাঠের উত্তেজনা সামলে ব্রাজিলিয়ান সাম্বা তারকারাই শেষ পর্যন্ত খেলায় পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে। ৬৯ মিনিটে এন্দ্রিকের বাড়ানো পাসে চমৎকার ফিনিশিংয়ে ব্রুনো গুইমারেস গোল করে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ৮০ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে বক্সে ফেলে দিলে প্রাপ্ত দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ৪-২ ব্যবধানের দাপুটে জয় সুনিশ্চিত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
আনচেলত্তির অধীনে ১৯ ম্যাচে ১১তম জয় পেলেও দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা ও নতুন অধিনায়কের ইনজুরি টেনশন বাড়িয়েছে ব্রাজিল ভক্তদের।