মেসির আবেগঘন বিদায়ে রোনালদোর হৃদয়স্পর্শী শ্রদ্ধা

ফুটবল বিশ্বের বৈরিতা, তর্ক আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে একপাশে সরিয়ে রেখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক অবসরকে স্যালুট জানালেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ঘরের মাঠ এস্তাদিও মনুমেন্তালে ৮৫ হাজার ভক্তের সামনে আকাশি-সাদা জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্টে ৩-০ গোলের জয় এনে দিয়ে ২১ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ৩৯ বছরের মেসি।

আর এই আবেগময় মহাপ্রস্থানের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন মেসি তাঁর মনের কষ্ট প্রকাশ করেন, ঠিক তখনই ফুটবলের অপর মহাতারকা রোনালদোর সেই ঐতিহাসিক প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মন জয় করে নেয়!

Ronaldo Messi 1
বিদায়ের পর ইনস্টাগ্রামে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তায় মেসি লেখেন, মঙ্গলবারই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে আমার শেষ ম্যাচ, আর এখনই আমি এই আকাশি-সাদা জার্সিটাকে মিস করতে শুরু করেছি। তবে আমি জানি যে আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি। এই সফরটি ছিল অভাবনীয় আনন্দ এবং কিছু বেদনায় ভরা, তবে আমার প্রতিটি পদক্ষেপ অর্থবহ ছিল।

মেসি তাঁর এই ঐতিহাসিকযাত্রায় প্রয়াত ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনাকে স্মরণ করে যোগ করেন, আমি দিয়েগোকে কোনোদিন ভুলতে পারি না, যিনি আমাদের দেশকে যোগ্য আসনে বসিয়ে গেছেন। আকাশ থেকে তিনি আমাদের প্রতি পদে সাহায্য করে গেছেন।

মেসির আবেগঘন পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই সাড়া ফেলেন ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদো। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথের অন্যতম নায়ক রোনালদো মন্তব্য বক্সে লেখেন, লিও, এতগুলো বছর ধরে নিজের দেশের হয়ে লড়াই করার পর তুমি এমন এক ইতিহাস তৈরি করেছ যা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রইল। তোমাকে এক বুক আলিঙ্গন!

Ronaldo Messi
মাঠের লড়াইয়ে বছরের পর বছর একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, বিদায়বেলায় সিআরসেভেনের (CR7) এই বার্তা প্রমাণ করল মাঠের বাইরের গভীর সম্মান ও ভালোবাসা।

এদিকে, মেসির এই রাজকীয় বিদায় এবং বিশ্বজোড়া শ্রদ্ধার ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে আছেন রোনালদো নিজেই। জাতীয় দলের ট্রেইনিং ক্যাম্প আচমকা ছেড়ে চলে আসার পর পর্তুগাল কোচ জোর্জে জেসুসের সঙ্গে তীব্র বিরোধ ও জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন রোনালদো।

একদিকে যখন মেসির বিদায়কে কেন্দ্র করে পুরো বিশ্ব চোখের জলে ভাসছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদো তাঁকে বুকে টেনে নিচ্ছেন, অন্যদিকে তখন নিজের জাতীয় দলের কোচের সঙ্গে রনের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ফুটবল বিশ্বে চরম চর্চার জন্ম দিয়েছে!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স