ইউরোপিয়ান ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখকে ঘরের মাঠে ৩-৩ গোলে রুখে দিয়ে মহা-চমক দেখাল নরওয়ের চ্যাম্পিয়ন দল ভাইকিং এফসি! হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল জার্মান জায়ান্টরা। কিন্তু ম্যাচের শেষভাগে ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসের এক দায়িত্বজ্ঞানহীন ও মেজাজ হারানোর কাণ্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বায়ার্ন, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৯০ মিনিটে সমতা ফেরায় ভাইকিং।
মঙ্গলবার রাতে নরওয়েতে ম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় বায়ার্ন। শনিবার বুন্দেসলিগায় অসবার্গের বিরুদ্ধে দ্রুততম গোল হজমের দুঃস্বপ্ন কাটতে না কাটতেই, খেলা শুরুর মাত্র ৭২ সেকেন্ডের মাথায় জিয়ানি স্টেনসনেসের নিখুঁত হেডে স্তব্ধ হয়ে যায় বায়ার্ন শিবির। এরপর বায়ার্ন সমতায় ফেরার প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ৩৮ মিনিটে মারাত্মক এক পাল্টা আক্রমণে গোল করে ভাইকিংকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তাদের সর্বোচ্চ গোলদাতা পিটার ক্রিশ্চিয়ানসেন।
বিরতির পর কামব্যাকের মূল রূপকার হয়ে ওঠেন বায়ার্নের ইংলিশ ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। ৫০ মিনিটে কোনরাড লাইমার পেনাল্টি আদায় করে নিলে স্পট-কিক থেকে নিচু শটে ব্যবধান ২-১ করেন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। ৬০ মিনিটে জশুয়া কিমিচের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এটি ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগে কেইনের টানা নবম ম্যাচে গোল, যা রবার্ট লেভানডভস্কির ক্লাব রেকর্ড স্পর্শ করেছে এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর টানা ১১ ম্যাচের সর্বকালের রেকর্ড থেকে মাত্র দুই গোল দূরে রয়েছে। এর ১০ মিনিট পর কেইনের বাড়িয়ে দেওয়া দূরদর্শিতা পূর্ণ চিপ থেকেই লুইস দিয়াজ গোল করে বায়ার্নকে ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য লিড এনে দেন।
তবে বায়ার্নের এই ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের আশা মাটি করে দেন মাইকেল ওলিস। ম্যাচ শেষের ১৬ মিনিট আগে একটি ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখার পর মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিপক্ষ অধিনায়ক জ্লাতকো ত্রিপিকের মুখে সজোরে বল ছুড়ে মারেন ওলিস। রেফারির চোখের সামনে এমন কান্ড ঘটিয়ে এক মিনিটের ব্যবধানে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ১০ জনের বায়ার্নকে পেয়ে ছেঁকে ধরে ভাইকিং। ফলাফল, ৯০ মিনিটে দূরবর্তী পোস্ট থেকে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করে ৩-৩ সমতা ফেরান হারমান হাউগেন, যা ভাইকিংয়ের জন্য এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস।
ম্যাচ শেষে ওলিসের ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি ও হ্যারি কেইন। ওলিসের এই চরম ভুলের কারণে আগামী সপ্তাহে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে তাকে পাবে না বায়ার্ন। কোম্পানি অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, এটা আমাদের নিজস্ব ভুল ছিল। এই লাল কার্ডটি ছিল চরম বোকামির ফসল। অবশ্য মাইকেলের চোখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে সে দলের ক্ষতি করার জন্য অনুতপ্ত। অন্যদিকে কেইন বলেন, লাল কার্ডটাই সবকিছু বদলে দিল। ওলিসকে নিজের ভুলের দায় নিতে হবে এবং এটি থেকে শিখতে হবে। একের পর এক অঘটন ও ড্রয়ের মুখে পড়ে বেশ চাপে পড়ে গেল বাভারিয়ানরা।