বিলম্বিত ভেল্কিতে বার্সাকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিলো পিএসজি

ইউরোপীয় ফুটবলের আসল উত্তাপ যদি কোথাও দেখতে চান, তবে চোখ রাখতে হতো পার্ক দ্য প্রিন্সেসসে! উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অন্যতম সেরা দুই দাবিদারের জমজমাট দ্বৈরথে শেষ হাসিটা হাসলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইনই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের রাজত্ব আরও একবার জানান দিল ফরাসি পরাশক্তিরা।

ম্যাচের চিত্রনাট্য যেন কোনো থ্রিলার সিনেমাকেও হার মানায়! ম্যাচের ৮১ মিনিট পর্যন্ত খেলা ২-২ সমতায় ঝুলছিল। ঠিক তখনই সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ভিথিনিয়া। বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে চোখের পলকে এক দুর্দান্ত শটে বার্সার জাল কাঁপিয়ে দেন তিনি।

PSG Win 02
এরপর ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠোকেন ফ্যাবিয়ান রুইজ, যার গোলে এই নিয়ে চলতি মৌসুমে টানা তিন জয়ের দেখা পেল লুইস এনরিকের দল।

যদিও একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, বার্সেলোনা হয়তো প্যারিস থেকে অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে পারবে। এই বছরের ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে থাকা তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল দুর্দান্ত এক গোলে বার্সাকে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফিরিয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এর আগে পিএসজির হয়ে উদ্বোধনী গোলটি করেন ম্যাচের আসল নায়ক দেসিরে দুয়ে। আর বার্সার হয়ে কিশোর তুর্কি শাফি এস্পার্ত নিজের দ্বিতীয় সিনিয়র গোলটি করে বার্সাকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। মাঝখানে পিএসজিকে আবারও এগিয়ে দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার লুকাস হার্নান্দেজ।

এই হার নিশ্চয়ই বার্সেলোনাকে কিছুটা ধাক্কা দেবে। চলতি মৌসুমে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত যে রথ ছোটায় মেতেছিল ক্যাটালানরা, প্যারিসের মাঠে এসে সেই জয়ের ধারায় বাঁধ সাধল। তবে সান্ত্বনা একটাই—তাদের গোলের ফোয়ারা থামেনি, ইয়ামালের করা গোলটি ছিল মৌসুমে বার্সার ৫০তম গোল!

PSG Win 02
অন্যদিকে, লিগ ওয়ান ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মিলিয়ে টানা সাত জয়ে উড়ছে পিএসজি। তবে বিজয়ের এই আনন্দের মধ্যেও প্যারিস শিবিরে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে দুই তারকা, গত বছরের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী উসমান ডেম্বেলে এবং খভিচা কোভারাতসখেলিয়ার ইনজুরি। হামস্ট্রিং চোটের কারণে খেলার মাত্র ২০ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় ডেম্বেলেকে।

অবশ্য সামনে বড় ম্যাচ থাকায় কৌশলগত কিছু পরিবর্তনও দেখা গেছে এই ম্যাচে। আগামী রোববার ক্লাসিকোতে রিয়েল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা, যেখানে জিতলেই লা লিগায় ৯ পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের। হয়তো সে কারণেই ২০২৪ সালের ব্যালন ডি'অর বিজয়ী রদ্রিকে একদম শুরুতে একাদশে না রেখে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন বার্সা কোচ।

সব মিলিয়ে চোটের ধাক্কা, তরুণদের গর্জন, ভুলের মাশুল আর চোখধাঁধানো সব গোলের প্রদর্শনী শেষে প্যারিসের আকাশেই জ্বলজ্বল করছে পিএসজির দাপট। বার্সেলোনা লড়াইটা জমিয়ে তুলেছিল ঠিকই, কিন্তু ইউরোপের মঞ্চে পিএসজি যে এখনো অপ্রতিরোধ্য, তা আরও একবার হাড়েনাহাড়ে টের পেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা!