উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমাঞ্চ, গোলবন্যা আর নাটকীয়তার এক অবিস্মরণীয় রাতে ফুটবলবিশ্ব সাক্ষী হলো ৪৬টি গোলের মহোৎসব। তবে রাতের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ এবং নাটকীয় ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদেরই ঘরের মাঠ ইতিহাদে ৪-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে টানা দুই বারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
১১৪টি আর্থিক নীতি লঙ্ঘনের গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটিই ছিল ঘরের মাঠে ম্যান সিটির প্রথম ম্যাচ। গ্যালারিতে যখন সিটির সমর্থকেরা ব্যানার উঁচিয়ে নিজেদের অবস্থান প্রমাণের চেষ্টায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রথমার্ধে পিএসজি’র বিধ্বংসী আক্রমণের তোপে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় সিটি।

ম্যাচের শুরুতেই মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে ডেসায়ার দুয়ে এবং উসমান দেম্বেলে গোল করে ইতিহাদকে স্তব্ধ করে দেন। ৩২ মিনিটে ভিটিনহার দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় পিএসজি।
দ্বিতিয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দেয় সিটি। ৫৩ মিনিটে আর্লিং হল্যান্ড লক্ষ্যভেদ করে মাত্র ৬০ ম্যাচে সবচেয়ে দ্রুততম ৬০টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ গোলের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন (যেখানে লিওনেল মেসির লেগেছিল ৮০ ম্যাচ)।
তবে এরপরই আক্লিওচে এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে পিএসজির চতুর্থ গোল নিশ্চিত করেন। ৭৫ মিনিটে হল্যান্ড নিজের দ্বিতীয় গোল করলেও শেষ রক্ষা হয়নি; বিশেষ করে সিটির পেনাল্টি শট পিএসজি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা রুখে দিলে সিটির পরাজয় সুনিশ্চিত হয়।

এদিকে ইতালির স্তাদিও অলিম্পিকোতে রোমার বিপক্ষে রূপকথার মতো এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের তাণ্ডবে ৪-৩ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম গোল করলেও দোনিয়েল মালেনের জোড়া গোলে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল রিয়াল। কিন্তু ৮২ মিনিটে কার্লোস এসপি এবং ৮৫ মিনিটে এন্ড্রিকের অবিশ্বাস্য দুই গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় সফরকারীরা। অবশেষে ৯০ মিনিটে এরদা গুলারের কর্নার থেকে সাবেক রোমা ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগারের দর্শনীয় হেডে রোমাকে স্তব্ধ করে ঐতিহাসিক জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ।
অন্যান্য ম্যাচে, অস্ট্রিয়ার লাস্ককে ৬-৩ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লিভারপুল, যেখানে নতুন তারকা ব্র্যাডলি বারকোলা তুলে নেন এক দৃষ্টিনন্দন হ্যাটট্রিক। আর অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা তাদের ইউরোপীয় ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জয় তুলে নিয়ে ফেনারবাচেকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে, যার নেপথ্যে জোড়া গোল করেন নিকোলাস জ্যাকসন ও রস বার্কলি।
