রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে লিভারপুলকে স্তব্ধ করলো ফেনারবাচে

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে সাবেক ক্লাব লিভারপুলকে সামনে পেয়ে দুর্দান্ত এক পুনর্মিলনী নাটকের জন্ম দিলেন ডার্ক কুয়েত। ইস্তাম্বুলের শুক্রু সারাকোগলু স্টেডিয়ামে দুই দু’বার পিছিয়ে পড়েও বুকচিতিয়ে লড়াই করে ইংলিশ জায়ান্টদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে ফেদেরবাচে।

দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ডার্ক কুয়েতের মগজধোলাই আর বদলি খেলোয়াড় বেদাত মুস্তাফা মুমিকির শেষ মুহূর্তের বীরত্বেই এই স্মরণীয় জয় পেল তুর্কি পরাশক্তিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে অলরেডরা। প্রথম পাঁচ মিনিটেই ফেনারবাচের গোল অভিমুখে চারটি শট নেয় তারা, যা ২০০৯ সালের পর ইউরোপীয় সেরা মঞ্চে লিভারপুলের দ্রুততম আক্রমণের রেকর্ড। অবশ্য অলরেডদের কপাল ভালোই বলতে হবে, নিজেদের ডি-বক্সে কোস্টাস সিমিকাস দুই হাত দিয়ে মেসন গ্রিনউডকে ধাক্কা দিলেও পেনাল্টি দেননি রেফারি।

এর কিছুক্ষণ পরেই জালের দেখা পায় ইস্তোনিয়ানের দল। স্বাগতিকদের বাজে ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ট্রেই নিয়োনির নেওয়া ভলি এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে সরাসরি জালে জড়ায় (০-১)। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের পর লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলের খাতা খুললেন নিয়োনি।

Liverpool Lost1
তবে সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে কুয়েতের শিষ্যরা দমে যাওয়ার পাত্র ছিলেন না। ২৯ মিনিটে মেসন গ্রিনউডের নেওয়া দূরপাল্লার ফ্রি-কিক জেরেমি জ্যাকেটের শরীরে লেগে দিক বদলে অ্যালিসন বেকারকে বোকা বানিয়ে জালে প্রবেশ করে (১-১)। সমতায় ফিরে আক্রমণের ধরণ আরও বাড়ায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর আর্চি ব্রাউন ও বারকোলা আক্রমণ চালালেও এডারসনের বাঁধায় গোল পাওয়া হয়নি। কিন্তু লিভারপুল কোচ অ্যান্ডোনি ইরাওলা মাঠে নামান কোডি গাকপো ও অ্যালেকজান্ডার ইসাককে। মাঠে নামার মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় গাকপোর সুনির্দিষ্ট ক্রস থেকে চোখধাঁধানো হেডারে দলকে ফের ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সুইডিশ তারকা ইসাক।

তবে লিভারপুলের এই স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র চার মিনিট। কর্নার থেকে ভুল বুঝে অলরেড গোলরক্ষক অ্যালিসন পোস্ট ছেড়ে বের হয়ে এলে সেই সুযোগ কাজে লাগান ডমিনিক সোবোসলাইয়ের ভুলে ছিটকে আসা বলের ফায়দা নেওয়া আর্চি ব্রাউন। দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন তিনি। ২০০৪ সালে চেলসির হয়ে আর্সেনালের বিরুদ্ধে ল্যাম্পার্ড ও ওয়েইন ব্রিজের গোলের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে এক ইংলিশ দলের বিপক্ষে দুই ইংলিশ খেলোয়াড় গোল করার বিরল রেকর্ড গড়লেন।

এরপর আসল আঘাতটি হানে ফেনারবাচে। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে লিভারপুলের তিন ডিফেন্ডার শূন্যে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে না পারলে গোললাইনেই দাঁড়িয়ে থাকেন অ্যালিসন। সুযোগের সৎব্যবহার করে কোণাকুণি এক অনবদ্য হেডারে বল জালে জড়িয়ে ফেনারবাচেকে ঐতিহাসিক ৩-২ ব্যবধানের জয় এনে দেন বদলি ফরোয়ার্ড বেদাত মুস্তাফা মুমিকি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের নবম ম্যাচে প্রথম গোল।

২০০৮-০৯ মৌসুমের পর এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূলপর্বে নাম লেখানো ফেনারবাচে দীর্ঘ ১০ ম্যাচ ও বহু বছরের দীর্ঘ জয়খরা কাটাল এই ইস্তাম্বুল ট্র্যাজেডিতে। ফলে অ্যান্ডোনি ইরাওলার অধীনে ইউরোপীয় মঞ্চে প্রথম পরাজয়ের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো লিভারপুলকে, আর উল্টোদিকে নিজেকে ফেনারবাচের স্থায়ী কোচের দৌড়ে বহুদূর এগিয়ে রাখলেন ডার্ক কুয়েত।