সবুজ ঘাসের ফুটবল মাঠ যেন নিমেষেই পরিণত হলো কুস্তির রিংয়ে! খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে ক্লাবের বোর্ড পরিচালকদের তাণ্ডব আর মারামারিতে লন্ডভন্ড এক অনুর্ধ্ব-২০ ম্যাচ। আর সেই গণহারের হাতাহাতি সামলাতে লাল কার্ডের বৃষ্টি ঝরালেন রেফারি। একের পর এক মোট ৫৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে গড়ে ফেললেন বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস!
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের অনূর্ধ্ব-২০ স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচে, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল উবারল্যান্ডিয়া ও মামোরে।
ম্যাচের রেফারি ফের্নান্দো প্যাট্রিক ড্রসগিক মোদেস্তোর দেয়া অফিশিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, নাটকের শুরু দ্বিতীয় অর্ধে। উবারল্যান্ডিয়ার এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে ক্ষোভে ফুসে ওঠেন ক্লাবটির কর্মকর্তা ও অফিশিয়ালরা। প্রতিবাদ জানাতে সরাসরি মাঠেই অনুপ্রবেশ করেন তাঁরা। এই ঝামেলার কারণে প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে খেলা।
অচলাবস্থা কাটিয়ে খেলা পুনরায় শুরু হলে যোগ করা সময়ের ৯ মিনিটে গোল দিয়ে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মামোরে। তবে বিপত্তি বাঁধে উদযাপনের সময়। গোল করার পর উল্লাসের ছলে উবারল্যান্ডিয়ার খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে অশালীন ব্যঙ্গ ও উসকানি দিয়ে বসেন মামোরের খেলোয়াড় দাভি।
ব্যাস, আর যায় কোথায়! হাতাহাতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রেফারি মোদেস্তো তাঁর রিপোর্টে লেখেন, "দ্বিতীয় অর্ধে ৫৪তম মিনিটে এক ব্যাপক ও সাধারণ সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মাঠে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো এবং ম্যাচ সমাপ্তির আনুষ্ঠানিক নিয়ম পালন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। সার্বিক বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতির কারণে আমি ম্যাচটি সেখানেই সমাপ্ত ঘোষণা করি।"
ম্যাচ শেষে হিসাব কষে দেখা যায়, রেফারি মোট ৪৩ জন খেলোয়াড়, ৮ জন কোচিং স্টাফ এবং উবারল্যান্ডিয়ার ২ জন বোর্ড পরিচালককে লাল কার্ড বা বহিষ্কারের লাল নোটিশ ধরায়। সব মিলিয়ে বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩-তে!
এর আগে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের দল আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিত্তোরিয়ানো আরেনাসের মধ্যকার ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর গিনেস বিশ্বরেকর্ড ছিল, যা এবার ব্রাজিলিয়ান তরুণদের মারামারিতে ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
মারামারিতেই শেষ হয়নি তাণ্ডব। রেফারিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ম্যাচ শেষে মামোরের দল প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুম ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পর বুধবার উবারল্যান্ডিয়া ক্লাব কর্তৃপক্ষ এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। তারা জানায়, ‘ফেয়ার প্লে’ আচরণের অংশ হিসেবে তারা সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ, লাল কার্ডের জোয়ারে মামোরে দলের কাছে একাদশ নামানোর মতো পর্যাপ্ত ফিট খেলোয়াড়ই অবশিষ্ট ছিল না! ফলে এই ওয়াকওভারের সুবাদে সরাসরি ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় মামোরে।
উবারল্যান্ডিয়া কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, মাঠে এই অশুভ আচরণের জন্য দায়ী ব্যক্তি ও খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ক্লাব অভ্যন্তরীণভাবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।