ইলন মাস্কের ভেগাস লুপকে 'মৃত্যু ফাঁদ' বলছেন ব্যবহারকারীরা!

মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা যেসব বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করেছে, সেগুলো যাতে দ্রুত চলাচল করতে পারে সেজন্য বানানো হচ্ছে ভূগর্ভস্থ টানেল। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস শহরে রয়েছে এমনই একটি টানেল, নাম 'লাস ভেগাস লুপ'। ব্যবহারকারীদের অনেকেরই অভিযোগ, এই টানেলগুলো আসলে একেকটা 'মৃত্যু ফাঁদ'! 

সম্প্রতি সেই ভেগাস লুপের ভেতরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে টুইটারে। এ্যাডাম ট্রাণ্টার নামের এক ব্যক্তি টেসলার বৈদ্যুতিক গড়িতে চেপে ওই টানেল অতিক্রম করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাটির প্রায় ৪০ ফুট নিচের ওই টানেল দিয়ে ছুটছে টেসলা কার। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে গাড়িটি থেমে যায়। দেখা যায় টানেলটি অনেকটাই সংকীর্ণ এবং অনিরাপদ।   

এ্যাডাম ট্রাণ্টার বলেন, সংকীর্ণ টানেলের ভেতর যে যানজট দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এ আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।  

শুধু এ্যাডাম একা নন, ভিডিও'র মন্তব্য ঘরে টানেল ব্যবহারকারী আরও কয়েকজন একই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, টানেলে থাকা অবস্থায় যদি গাড়িতে আগুন লাগে, তাহলে অনেকেই সেখানে পুড়ে মারা যাবে। বড় ধরনের বিপদে মানুষ কিভাবে সেখান থেকে বের হবে, সেই প্রশ্নও করেন অনেকে।   

যদিও টানেল নির্মাতা কোম্পানি 'বোরিং' তাদের ওয়েবসাইট জানায়, টানেলের মধ্যে আগুন লাগলে তা থেকে বাঁচার জন্য যথাযথ নিরাপদ ব্যবস্থা রয়েছে।   


কোম্পানিটির দাবি, কোনো অভ্যন্তরীণ দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীরা টানেল থেকে নিরাপদে বের হতে পারবেন। এছাড়া টানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় বায়ুচলাচল ব্যবস্থা রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে, যা ধোঁয়া সরিয়ে দেয়। ফলে যাত্রীরা নিরাপদে বের হতে পারবেন।  

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানায়, লাস ভেগাস লুপটি ২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো চালু করা হয়। মাটির ৪০ ফুট নিচে এই রাস্তা তৈরিতে খরচ হয়েছিলো প্রায় ৫০ লাখ ডলার। 


আরও পড়ুন: ডাডলে চিড়িয়াখানায় ম্যালেরিয়াতে ৭০ শতাংশ পেঙ্গুইনের মৃত্যু

বোরিং কোম্পানি বলছে, এই টানেলটি পর্বতের চূড়া মাত্র! লাস ভেগাসে মোট ৫১ টি স্টেশনসহ ২৯ মাইল দীর্ঘ টানেল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস শহরের হোটেল, ক্যাসিনো, ফুটবল স্টেডিয়াম, ভেগাস কনভেনশন সেন্টার এবং ম্যাককারান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও যাওয়া যাবে এসব টানেল দিয়ে। 


একাত্তর/আরবিএস