বাজেটে দুঃসংবাদ টেলিকমখাতে

বাজেটে আইসিটি খাতের জন্য সুখবর থাকলেও, দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে টেলিকমখাতে। মুঠোফোনে কথা বলা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার, দুই ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ছে। একইসাথে স্থানীয় ও আমদানি করা দুই ধরনের স্মার্টফোনে করের হারও একধাপ বাড়বে । ফলে এগুলোর দামও হাতের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

সব ঠিক থাকলে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বিশাল আকারের বাজেট আসতে যাচ্ছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। যেখানে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্বের নজর থেকে এতোদিন একটু দূরেই ছিলো দেশের আইসিটির ২৭টি খাত। তবে এবার সবাজেটে এর মধ্যে অন্তত সাতটি খাত করের কবলে পড়বে। আর নতুন আরও তিনটি খাত কর অব্যাহতির সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সবমিলিয়ে আইসিটি খাতের ২০ থেকে ২৩টি উপখাতে কর অব্যাহতি বহাল থাকতে পারে। 

mobile-shop

প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের দাবি শুধু কর অব্যহতিই নয়, দরকার নীতি সহায়তা। বিশ্বজুড়ে তোলপাড় করা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশীয় শিল্পকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি তাদের। তবে সাধারণ মানুষ চায়, মোবাইল ফোনের দাম কমুক, মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় কম টাকা কাটুক।

বেসিসের সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, বাজেটে দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে যেনো প্রাধান্য দেয়া হয়, সরকারি ক্রয়ে এবং বেসরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে। সে জায়গাটাতে আমরা একটা পলিসি চাই। মানব সম্পদ উন্নয়নের দিকেও জোর দিতে হবে।

এবার মোবাইল ফোনে কথা বলা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা আসতে পারে। বর্তমানে স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে সব মিলিয়ে ২৬ শতাংশ আর আমদানি করা মোবাইল ফোনে ৫৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এবার আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়তে পারে।

internet

রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মোহাম্মদ সাহেদুল আলম এ বিষয়ে বলেন, টেলকম সাবস্ক্রাইবারদের ট্যাক্স যখন আপনি বাড়াবেন তখন তারা খরচ কমানোর চেষ্টা করবে। তাতে ট্যাক্স বাড়িয়ে যে প্রবৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে, তা হবে না।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট এবং রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তৈমুর রহমান বলেন, আমাদের জিডিপির অনেকটাই টেলিকমের ওপর নির্ভরশীল।

mobile

দেশের উৎপাদিত স্মাটফোনের বাজারে প্রণোদনার কথা জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি কার্যকর হলে কিছুটা হলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিটিআরসির কমিশনার প্রকৌশলী শেখ রিয়াজ আহমেদ বলছেন, এ দেশের যারা আছেন, তাদের জন্য আমরা একটা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি।

ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ যে সম্পূরক শুল্ক আছে, ভোক্তারা তার সাথে ১ শতাংশ সারচার্জ দিয়ে আসছেন। এবার আরও ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারেও গুনতে হতে পারে বাড়তি অর্থ।

এতে স্থানীয় উৎপাদিত স্মার্টফোনের দাম বাড়তে পারে। সিমের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। বর্তমানে ই-সিমসহ সকল সিমের ওপর ২০০ টাকা ভ্যাট আরোপিত আছে। কর্পোরেট করের ক্ষেত্রেও টেলিকম খাতের জন্য নেই কোনো সুসংবাদ। অপারেটররা বলছেন, এতে করে সেবা দেয়া কঠিন হয়ে উঠবে।