দেশে একটি আইএমইআই নাম্বারেই নিবন্ধিত আছে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার হ্যান্ডসেট। বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন অসাধু চক্র আছে যারা টাকা বিনিময়ে মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার বদলে দিচ্ছে। এভাবেই দেশের মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করছে অবৈধ হ্যান্ডসেটের।
বৃহস্পতিবার ‘দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটে উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ -শিরোনামের সেমিনারে এই তথ্য তুলে ধরেন মোবাইল ফোন অপারেটর এবং মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আর এই তথ্যে বিস্মিত খোদ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও।
ধরুন, অনেক শখের একটি হ্যান্ডসেট আপনি কিনেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নাম্বারটি কাছে রেখেছেন। কিছুদিন পর মোবাইল হ্যান্ডসেটটি ছিনতাই হলো। আপনি পড়লেন বিপদে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে গিয়ে দেখলেন আরও অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার হ্যান্ডসেট আছে যাদের সবার একই আইএমইআই নাম্বার।
কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধ সেট বুঝবেন কি করে?
বৃহস্পতিবার টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রির্পোটার্স নেটওয়ার্ক-টিআরএনবির আয়োজনে সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন বক্তারা। জানান, শুধুমাত্র অবৈধ হ্যান্ডসেটের কারণে সরকার ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। সরকারের এনইআইআর কার্যক্রম থেমে যাবার কারণে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বাজার বন্ধ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
এসময় ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার প্রধান হারুন অর রশিদ জানান, অভিযান চলবে। তবে দরকার সবমহলের সহযোগিতা।
অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান জানান, অবৈধ হ্যান্ডসেট কোথায় বিক্রি হচ্ছে সেটার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানো হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে মোবাইল হ্যান্ডসেটের কোয়ালিটির দিকে নজর দেয়ার তাগিদ দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান।
এসময় ডাক টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম আরও জোরালো করা হবে। যে প্রতিষ্ঠান দেশে উৎপাদিত মোবাইল হ্যান্ডসেট বিদেশে রপ্তানি করবে, তাদের জন্যও থাকছে সুখবর।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সেমিনারে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার তদারকির তাগাদা দেন।