সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক উপাদান, ডিপফেক কন্টেন্ট এবং বিভিন্ন কার্যক্রমগত ভুলের জন্য ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। একই সাথে, নির্দিষ্ট কিছু কন্টেন্ট বা প্রচারণাকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বুস্ট করা এবং অবৈধ কন্টেন্ট প্রচারের মতো ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে মেটার বিশ্বমানের একটি প্রতিনিধিদলের প্রায় ৪৫ মিনিটের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বার্তা সম্বলিত উল্লম্ব ভিডিও মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ২৩ জুলাই কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অনলাইন প্রতিবাদের উত্তাল মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য রেখে ওই ভিডিওটি পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওটি সরিয়ে নেয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে মেটা এটিকে ‘কারিগরি ত্রুটি’ বলে দাবি করে এবং পুনরায় ফিরিয়ে আনে।
তবে ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মেটার এই ব্যাখ্যাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং সংস্থাকে তলব করে। বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বে গঠিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও মেটা প্রধানের কাছ থেকে এই ভুলের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানায়।
এনডিটিভি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মেটা আর সাধারণ কোনো ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ বা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে ছাড় পাবে না।
কারণ হিসেবে বলা হয়, মেটার অ্যালগরিদম নিজেই ঠিক করে, কোন ব্যবহারকারী কী কন্টেন্ট দেখতে পাবেন। ফলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে তারা আর 'সেফ হারবার' বা আইনি সুরক্ষার সুবিধা দাবি করতে পারবে না। অর্থাৎ, প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত বিতর্কিত বা অনৈতিক কন্টেন্টের জন্য সরাসরি মেটা কর্তৃপক্ষকেই আইনি দায়ভার নিতে হবে।
টাকার বিনিময়ে কন্টেন্ট বুস্ট ও ভুল স্বীকার: বৈঠকে অংশ নেয়া মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু কন্টেন্ট বুস্ট করার জন্য প্রচুর অর্থ নেয়া হয়েছিল। মেটা কর্মকর্তারা নিজেদের ভুল মেনে নিয়ে জানান, তাদের সিস্টেমে প্রচুর অবৈধ ও আপত্তিকর কন্টেন্টকে প্রচার দেয়া হয়েছে, যা একটি বড় ধরনের ভুল ছিল।
এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশু নির্যাতনমূলক উপাদান এবং নারীদের অবমাননাকর কন্টেন্ট রোধে মেটার চরম ব্যর্থতা নিয়ে কড়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মেটার সবচেয়ে বড় বাজার ভারত: ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে মেটার সবচেয়ে বড় বাজার হলো ভারত। দেশটির শত কোটি মানুষ প্রতিদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। ফলে ভারতের মতো বিশাল বাজারে আইনি জটিলতা ও সরকারের কড়া অবস্থানের মুখে মেটা কর্তৃপক্ষ বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি সেখানেই শেষ হচ্ছে না। মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই সংক্রান্ত আরও জবাবদিহিতার জন্য খুব শিগগিরই আবারও তলব করা হবে।
তথ্যসূত্র; এনডিটিভি