প্রাচীনকাল থেকেই জ্ঞানের পেছনে ছুটছে মানুষ। নিজেদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে উন্নত লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারের ভূমিকাও অপরিসীম। তাই, প্রাচীন ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির সংগ্রহ নিয়ে ইরাকের বাসরায় যাত্রা শুরু করেছে নতুন এক লাইব্রেরি। যেখানে স্থান পেয়েছে শত বছরের পুরোনো বই। যা থেকে জানা যাবে ইরাকের হাজারের বছরের ইতিহাস।
দক্ষিণ ইরাকের বাসরা শহরে ঐতিহ্যবাহী ও পুরাকীর্তির উপর নির্মাণ করা হয়েছে নতুন জাদুঘর। দেশটির সুমেরীয়, অ্যাসিরিয়ান এবং ইসলামিক সভ্যতার বই ও পাণ্ডুলিপির বিশাল এক সংগ্রহ নিয়ে স্থান পেয়েছে এখানে। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বাড়িতেই গোড়ে তোলা হয়েছে এই সংগ্রহশালা
লাইব্রেরিটিতে বিদেশি ও ইরাকের ইতিহাস সম্বলিত দুর্লভ বইগুলো রয়েছে। এমনকি এখানে আছে ১শ’ বছরের পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনও। আর শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বসরা কালচারাল মিউজিয়াম লাইব্রেরি।
বসরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদের অধ্যাপক ড. আদেল হাশেম বলেন, প্রাচীন প্রত্নতত্ত্বের উপর বেশকিছু বই- পুস্তক ইরাকের বাসরাতে আছে। তবে এগুলো প্রায় এখন অস্তিত্বহীন। বেশ কিছুদিন ধরে আমি বাসরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব বইয়ের অভাবে ভুগছিলাম। পরে সেগুলো পেতে আমাকে বাগদাদ বা মসুলে যেতে হয়েছিল।
ইরাকের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রসার ঘটাতে ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ইরাক গ্রন্থশালাটির জন্য প্রায় তিন হাজার বই দিয়েছে।
ড. আদেল হাশেম জানান, প্রাচীন ইরাকের সভ্যতা সম্পর্কিত তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল কিউনিফর্ম টেক্সট। কিউনিফর্ম টেক্সট হল প্রাচীন ইরাকের লেখার ইতিহাসের মেরুদণ্ড। আগে বাগদাদের বিভিন্ন লাইব্রেরি ঘুরে আমাদের বইগুলো সংগ্রহ করে অনুবাদ করতে হতো। তবে এখন, ব্রিটিশদের দ্বারা অনুবাদ করা মূল কিউনিফর্মের বইগুলো যাদুঘরে আছে যা আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।
বসরা জাদুঘরটি শাট আল-আরব নদীর তীরে অবস্থিত। লাইব্রেরিটি সুমের, ব্যাবিলন এবং অ্যাসিরিয়া তিনটি গ্যালিতে বিভক্ত।এ বছরের মার্চে লাইব্রেরিটির তিনটি গ্যালারি খোলা হয়েছে।
বসরা গভর্নরের প্রত্ন-সম্পদ ও ঐতিহ্যের পরিচালক, মুস্তাফা আল-হুসাইন বলেন, বসরা সাংস্কৃতিক যাদুঘরটি পরিদর্শন করলে, মানুষেরা এখানকার সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারবে। যাদুঘরের এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে তারা সভ্যতার প্রাচীন নিদর্শনগুলোর দেখা মিলবে। গবেষক এবং পাঠকদের জন্য এটা একটি পরিদর্শন
বাসরার এই সাংস্কৃতিক লাইব্রেরিটি প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ১৯৯১ সাল বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি এটি আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।