১২ লাখে লন্ডনী পাত্র

যুক্তরাজ্যে ভিসা নিয়ে অনলাইনে সক্রিয় প্রতারক চক্র

যুক্তরাজ্যে মানবপাচারে এবার দালাল চক্র ব্যবহার করছে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে।

সিলেটি বিয়া-সাদি ডটকম নামে ডিজিটাল ম্যারেজ ব্যুরোর আড়ালে প্রকাশ্যেই চলছে এ ধরণের জালিয়াতি। 

চুক্তিভিত্তিক বিয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ভিসা পাইয়ে দিতে দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ থেকে ৩১ লাখ টাকা। স্টুডেন্ট ভিসার এমন অপব্যবহারের কারণেই পোস্ট-গ্রাজুয়েট লেভেলে স্পাউস ভিসা বন্ধ করা হয়েছে বলে মত অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের।

সিলেটি বিয়া ডটকম নামে ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া বিজ্ঞাপনে রেদোয়ান রেজার পোস্ট, ‘ইউকে যাওয়ার জন্য ডিপেন্ডেন্ট মেয়ে লাগবে, খরচ ৩১ লাখের মাঝে, মেয়ের এম্বেসীর ফি আর টিকেটের পর ১২ লাখ টাকা দিলেই হবে।’

মালিহা মাহজুজার পোস্ট, ‘সিলেট বা সিলেটের বিভাগের ভিতর আর্জেন্ট ডিপেনডেন্ট মেয়ে প্রয়োজন। কেয়ার ভিসা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ খরচ বহন করতে হবে।’
ফেসবুকে সিলেটি বিয়া সাদি ডটকম বা সিলেটি বিয়া ডটকম গ্রুপের মাধ্যমে লন্ডনের ভিসা পাইয়ে দিতে এভাবেই প্রকাশ্যে চলছে মানবপাচারের রমরমা ব্যবসায়।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ সলিসিটর কালাম চৌধুরী জানান, এটা জালিয়াতি, আদম পাচার। ব্রিটিশ আইনে এটা মারাত্মক অপরাধ। বাংলাদেশি আইন অনুযায়ীও এটা ফৌজদারি অপরাধ। 

ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস বলছে ২০১৯ সালে মাত্র ১৬ হাজার স্টুডেন্ট ডিপেডেন্টকে ভিসা দিলেও ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্টুডেন্ট ডিপেডেন্ট ভিসা ইস্যু হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার। স্টুডেন্টদের স্পাউস ভিসাপ্রাপ্তির দৌড়ে নাইজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা রয়েছে শীর্ষ পাঁচে।

এইচজেড এসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী গোলাম মর্তুজা জানান, স্পাউসসহ স্টুডেন্টরা সেখানে গিয়ে ভালো আবাসন পাচ্ছে না, পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছে না। এর ফলে ড্রপআউটের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সমস্যার কারণে অনেকের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। 

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে গত ১২ মাসে মোট অভিবাসীর সংখ্যা পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে সাত লাখে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা গত ২০২১-২২ শিক্ষা বর্ষে ব্রিটেনের অর্থনীতিতে প্রায় ৪২ বিলিয়ন পাউন্ড যোগ করলেও অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর হচ্ছে ক্ষমতাসীন কনসারভেটিভ দল।

একাত্তর/জো