ইলন মাস্কের রকেট এবং মহাকাশযান প্রস্তুতকারী সংস্থা স্পেসএক্স এক বাংলাদেশী-আমেরিকান কিশোরকে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে স্নাতক শেষ করার পর শিগগিরই সেখানে যোগ দিতে চলেছেন ১৪ বছর বয়সী কায়রান কাজী।
শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার প্লেস্যান্টনে নিজের বেডরুম থেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কায়রান বলেন, ‘আমি মনে করি কলেজের বছরগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় ছিল, কারণ আমার যাত্রা ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য আমার অনেক স্বাধীনতা ছিল’।
স্পেসএক্সের স্টারলিংক দলে যোগদানের বিষয়ে তিনি উত্তেজনা প্রকাশ করেন, যেটি কোম্পানির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য দায়ী।
এটি বেশ বড় কৃতিত্ব, বিশেষ করে এমন একজন কিশোরের জন্য যিনি ইতিমধ্যে অনেক কিছু অর্জন করেছেন।
কায়হানের বাবা-মা জুলিয়া এবং মুস্তাহিদ কাজী সিলেটের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা।
তিনি সিলেটে তার নানার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তাদের পরিবারের নামে একটি বাজার রয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলা ভাষা শেখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।
দুই বছর বয়সেই কায়হান সম্পূর্ণ বাক্য ব্যবহার করে কথা বলতে পারতেন। কিন্ডারগার্টেনে থাকতে তিনি রেডিওতে শোনা রিপোর্ট শেয়ার করে বর্তমান ঘটনা সম্পর্কে তার জ্ঞান দিয়ে তার শিক্ষক এবং সহশিক্ষার্থীদের মুগ্ধ করেছিলেন।
৯ বছর বয়সে তিনি অনুভব করতে শুরু করেন তার শিক্ষা তাকে বিকশিত করছে না। তার শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, সেইসাথে তার বাবা-মা এবং শিক্ষক, সবাই ভেবেছিলেন তিনি উচ্চস্তরের পড়াশোনার জন্য প্রস্তুত।
ওই বয়সে তাকে কলেজে ভর্তি করা কঠিন ছিল, কিন্তু অবশেষে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লিভারমোরের লাস পসিটাস কলেজে ভর্তি হতে সক্ষম হন।
এরপর তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াশোনা না করেই সরাসরি একটি কমিউনিটি কলেজে চলে যান, যেখানে কোর্স লোড তার কাছে বোধগম্য হয়।
আরও পড়ুন: লাভা ছড়াচ্ছে ফিলিপাইনের আগ্নেয়গিরি, ঘরছাড়া ১৩ হাজার
‘আমি অনুভব করেছি যে আমি সেই স্তরে শিখছি যেটা আমি শিখতে চেয়েছিলাম,’ কায়রান বলেছেন, যিনি পরে সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হন।
অবসর সময়ে কায়রান ভিডিও গেম খেলতে পছন্দ করেন, যেমন ঐতিহাসিক কল্পকাহিনী সিরিজ ‘অ্যাসাসিনস ক্রিড’। এছাড়াও তিনি ফিলিপ কে ডিকের সাই-ফাই ছোট গল্প এবং সাংবাদিক মাইকেল লুইসের লেখা পড়তে ভালোবাসেন।
একাত্তর/এসজে