ফিলিপাইনের উত্তর-পূর্বে দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি মেয়ন থেকে লাভা নিঃসরণ অব্যাহত থাকায় প্রায় ১৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সোমবার বিবিসি জানায়, লরি এবং মহিষের টানা গাড়িতে চড়ে, ‘স্থায়ী বিপদ অঞ্চল’ বা আগ্নেয়গিরির ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী লোকেরা আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যাচ্ছেন।
‘নিখুঁত’ শঙ্কু আকৃতির জন্য পরিচিত মেয়ন গত সপ্তাহে লাভা ছড়াতে শুরু করে। তবে সপ্তাহান্তে আগ্নেয়গিরির ক্রিয়াকলাপ তীব্র হয়ে ওঠায় সতর্কতা জারি করে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া শুরু হয়।
দেশটির প্রধান আগ্নেয়গিরিবিদ টেরেসিটো বাকলকোল বলেছেন, আসন্ন দিনগুলোতে মেয়নের অস্থিরতা তীব্র হলে আরও বেশি লোককে সরিয়ে নেয়া হতে পারে।
আগ্নেয়গিরিটি পাঁচ-স্তরের ব্যবস্থায় বর্তমানে তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার অধীনে রয়েছে, যা একটি বিপজ্জনক বিস্ফোরণের হুমকির পূর্বাভাস দেয়। ধীরগতিতে এর জ্বালামুখ থেকে লাভা নিঃসরণ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

বিকোল নামক একটি কৃষি উপদ্বীপে অবস্থিত মেয়ন দেশটির সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং এর গর্ত থেকে পাথর পড়ার কারণে অস্থির হয়ে উঠেছে এটি।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে বাকলকোল বলেছেন, জ্বালামুখ থেকে আগ্নেয়গিরির গ্যাস এবং শিলার দ্রুত গতিশীল স্রোত নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে। এই স্রোতগুলোকে অতিক্রম করা কঠিন হবে।
১৮১৪ সালে মেয়নের অগ্ন্যুৎপাতে বারোশো লোক মারা যায় এবং একটি পুরো শহর লাভার নিচে চাপা পড়ে। তবে এর আশেপাশের এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করার ফলে ২০১৩ এবং ২০১৮ সালের সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতে কম হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, আগ্নেয়গিরির দৃশ্য দেখার জন্য পাহাড়ের চূড়ায় ক্যাম্প করতে শুরু করেছে পর্যটকরা। গিনেস বুকে ‘সবচেয়ে নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির’ বলে আখ্যা পাওয়ায় মেয়ন পর্যটকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা অগ্ন্যুৎপাত প্রত্যক্ষ করার জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যেখানে বসে রোমাঞ্চ-সন্ধানীরা এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: পাল্টা আক্রমণে তিনটি গ্রাম মুক্ত করার দাবি ইউক্রেনের
মেয়নের সৌন্দর্য ফিলিপিনো লোককাহিনীর অংশ। এর নামটি এসেছে স্থানীয় ‘দারাগাং মেয়ন’ শব্দ থেকে, যার অর্থ সুন্দরী নারী।
ফিলিপাইনের ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে মেয়ন অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে তাল এবং কানলাওন আগ্নেয়গিরিকেও উদগীরণের আশঙ্কায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
একাত্তর/এসজে
