মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে নির্মাণাধীন একটি ভবন ধসে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের সবাই বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গুরুতর আহত আরো দুজনকে হাসাপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া আরো চারজনকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। ধসে পড়া ওই ভবনে কর্মরত থাকা সবাই বাংলাদেশি শ্রমিক বলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত পৌনে দশটায় পেনাংয়ের বাটু মাউংয়ে তিনতলা ওই ভবন ধসে পড়ে।
পেনাংয়ের উপ পুলিশ প্রধান মোহাম্মদ উসুফ জান মোহাম্মদের বরাত দিয়ে স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। এদের মধ্যে নয়জন নামাজে গিয়েছিলেন।
ধসে পড়া ভবনে আটকে পড়েন নয়জন। এদের মধ্যে পাঁচজনের সন্ধান মিললেও এখনও চারজনের উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মোহাম্মদ উসুফ বলেন, নির্মাণাধীন ভবনে ১৪ টন ওজনের ১২ মিটার (৩৯ ফুট) উঁচু বিম ধসে পড়ে। এর জেরে ভেঙে পড়ে আরো ১৪টি বিম।
‘এখন পর্যন্ত, আমরা তিনজন নিহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি। এদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলে মারা গেছেন এবং অন্য একজন মারা গেছেন হাসপাতালে।’
গুরুতর আহত দুজনকে পেনাং হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, ধসে পড়া কাঠামোর নিচে যে চারজন আটকা পড়ে আছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ওই ভবনের সব শ্রমিকই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ওই দুর্ঘটনাস্থানের পাশেই কাজ করছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মোহাম্মদ ইখতিয়ার। তিনি মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টারকে বলেছেন, প্রকাণ্ড শব্দে নির্মাণাধীন ভবন ধসে পড়ে এবং মাটি কেঁপে ওঠে।
‘আমি পাশের একটি সাইটে কাজ করছিলাম। হঠাৎ বিকট একটি শব্দ হলো। তাকাতেই দেখতে পেলাম, মাঝখানের অংশে বড় কংক্রিটের বিমের মতো কাঠামো নিচে নেমে গেলো।’
অন্যান্য সহকর্মীদের নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ইখতিয়ার ধসে পড়া স্থাপনার কাছে চলে যান এবং দেখেন অনেকগুলো বিম একটি স্তূপ হয়ে পড়ে আছে।
ইখতিয়ার বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আমরা বুঝতে পারি যে, শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
কিন্তু ধসেপড়া বিমগুলো খুব ভারী ছিলো এবং বড় যন্ত্রপাতি ছাড়া এগুলো সরানো আমাদের পক্ষে ছিলো অসম্ভব। এরপর দ্রুতই উদ্ধারকারীরা এসে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে।