ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৪৮ দিন নির্বিচারে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরাইল।
গাজার কর্মকর্তাদের দাবি, এই সময়ে উপত্যকায় ৪০ হাজার টন বোমা ফেলেছে ইসরাইল। এতে ১৪ হাজার আট শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত হয়েছে আরও ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।
তবে বোমা হামলার এই বিভীষিকার চেয়েও গাজায় ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে সতর্ক বার্তা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজায় বোমার চেয়েও বেশি প্রাণহানি হতে পারে বিভিন্ন রোগে। বিবিসির খবর।
গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা না গেলে সেখানে বোমা হামলায় মানুষের মৃত্যুর চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে রোগের চিকিৎসা না পেয়ে। গাজাইয় জাতিসংঘ পরিচালিত কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে শিশুরা ব্যাপকহারে ডাইরিয়া এবং শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। জাতিসংঘ কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়ে আছে প্রায় ১১ লাখ মানুষ।
ক্যান্সারের মতো ক্রনিক রোগে আক্রান্ত রোগীরাও কোনও চিকিৎসা পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, গাজায় গত ৭ সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে ১৮ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই আশ্রয় নিয়ে আছে ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ- এর ১৫৬ টি কেন্দ্রে।
ডব্লিউএইচও এর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস জেনিভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওই সব কেন্দ্রের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। পাঁচ বছর ও এর বেশি বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা গেছে ডাইরিয়ার প্রকোপ; যার মাত্রা নভেম্বরের শুরুর দিকে ছিল স্বাভাবিকের চাইতে ১০০ গুণ বেশি।
তাদের নেই কোনও চিকিৎসা। আর চিকিৎসা ছাড়া বিশেষত, শিশুদের অবস্থা খারাপের দিকে যেতে পারে এবং তারা খুব দ্রুতই মারা পড়তে পারে।
ইসরাইলের কারাগার থেকে আরও ৩০ ফিলিস্তিনির মুক্তি