দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় অভিবাসন-বিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকার জালান বেদারা সড়কের একটি ভবনে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে ৭৭০ বিদেশিকে আটক করা হয়েছে দেশটির অভিবাসন দপ্তর। তাদের মধ্যে ৩৭৭ জন বাংলাদেশি। আছেন মিয়ানমার, নেপাল ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও।
বৈধ কাগজপত্র নেই- এমন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে গেছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশের আনাচে কানাচে চলছে চিরুনি অভিযান। সবশেষ অভিযান হয়েছে রাজধানী কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতাং এলাকায়। অভিযানের নাম রাখা হয়েছে অপস বেলাঞ্জা।
মাত্র দুই ঘণ্টায় বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বুকিত বিনতাং পরিণত হয় লকডাউন জোনে। এ সময় পর্যটকে ভরা সড়কগুলো চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন কর্মকর্তারা। তিনটি ব্লকে ঢোকা ও বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা অবরুদ্ধ করে তারা নথি পরীক্ষা করেন এবং লুকিয়ে থাকা অভিবাসীদের বের করে আনেন।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে পুত্রজায়া থেকে আসা অভিবাসন বিভাগের ১০৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। অভিযানটি নেতৃত্ব দেন অভিবাসন বিভাগের পরিচালক বাসরি ওসমান।
তিনি জানান, মোট ২ হাজার ৪৪৫ জনকে তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ জন বিদেশি এবং ৮৪৫ জন স্থানীয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুই নারীসহ ৩৭৭ জন বাংলাদেশি আছেন। এছাড়া মিয়ানমারের ২৩৫ জন, নেপালের ৭২ জন, ভারতের ৫৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ২জন নারীসহ ১৯ জন এবং ৯জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। মূলত, মেয়াদোত্তীর্ণ ভিসা, বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা এবং অনুমতি ছাড়া কাজ করার কারণেই এসব অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের পরিচালক বসরি ওসমান বলেন, সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে সেখানে বিদেশিরা জড়ো হয়ে কিছু একটা করছেন- তিন সপ্তাহ ধরে স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করছেন। এর ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাড়ে তিন ঘণ্টার অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক যাচাইয়ে পুত্রজায়ার অভিবাসন দপ্তরে নেয়া হবে। এরপর তাদের আটককেন্দ্রে পাঠানো হবে। এ ধরনের অভিযান চলতে থাকবে বলেও জানিয়েছে অভিবাসন বিভাগ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো হবে, যাতে মালিকরা কেবল অনুমোদিত কোটার মধ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়।
নিউইয়র্কে তথ্য উপদেষ্টার ওপর হামলার চেষ্টা, কনস্যুলেট ভবনে ভাঙচুর