লন্ডনে ‘বে অফ ব্লাড’ প্রামাণ্যচিত্রের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতীয় পরিচালক কৃষ্ণেন্দু বোসের প্রামাণ্যচিত্র ‘বে অফ ব্লাড’ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার ইতিহাস তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। লন্ডনে প্রামাণ্যচিত্রটির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ারে তিনি একথা জানান।

গেলো শুক্রবার বাংলাদেশের বিজয়ের ৫২ বছর পূর্তিতে, বেঙ্গল হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাই কমিশনের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত ‘বে অফ ব্লাড’ প্রামাণ্যচিত্রের আন্তর্জাতিক প্রিয়িমার শো অনুষ্ঠিত হয় লন্ডনে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রামাণ্যচিত্রের পরিচালক কৃষ্ণেন্দু বোস এবং  যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্যসহ অভিবাসী বাঙালিরা।

পরিচালক কৃষ্ণেন্দু বোস ৯৭ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্রে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পাশাপাশি গণহত্যাকে গুরুত্বের সাথে বিশ্লেষণ করেছেন। একাত্তর পাকিস্তানি হানাদারদের সংঘটিত ইতিহাসের ভয়াল গণহত্যার চিত্রের সঙ্গে উঠে এসেছে তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতি থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধপূর্ব ২৫ বছরের প্রেক্ষাপটও।

অনুষ্ঠানে ‘বে অফ ব্লাড’ এর পরিচালক কৃষ্ণেন্দু বোস বলেন, ছবিটা বানানোর উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববাসীর কাছে গল্পটা বলা, সাউথ এশিয়া ছাড়া অন্য দেশের মানুষকে জানানো। লিগ্যাল ডেফিনেশন অব জেনোসাইড, পলিটিক্যাল আইডিওলজি, বাংলাদেশে ইষ্ট পাকিস্তানে একাত্তরে জেনোসাইড হয়েছিল। একটা জাস্টিস শুরু হয়নি, এই জাস্টিস প্রক্রিয়াটা শুরু হওয়া দরকার।

london1

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাস্বামী বলেন, অনেক ভারতীয় নাগরিকই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানে না নতুন প্রজন্মকে গণহত্যা সম্পর্কে মনে করিয়ে দিতে এ ধরনের প্রামাণ্যচিত্র ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের মাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহতম যে গণহত্যা হয়েছে, সেটি জানাবে এই তথ্যচিত্র।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে তুলে আনা হয়েছে একাত্তরের গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ স্বজন, বীরাঙ্গনা, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, গণহত্যা গবেষক, রাজনীতিবিদদের বয়ান। এটির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়ার দেখে আগত অতিথিরা ভূয়সী প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ছবির পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে।

তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে কাজ করেছে, এটা আমার জন্মের আগে হয়েছে, আমার দাদুর কাছে যে গল্প শুনেছি, ইতিহাসের পাতায় যে গল্প ছিলো সেটা দেখে ভালো লাগলো। আমরা মনে করি এটা একটা অনন্য গণহত্যার একটা দলিল।