বিশ্ব যখন জ্বালানি সঙ্কটে, তখন দেশে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সৌর বিদ্যুৎ। এর ব্যবহারে জ্বালানি খাতে ব্যয়ের পাশাপাশি কমেছে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাহিদার চাপ। বিভিন্ন কারখানার ছাদে বসানো সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পাওয়া বিদ্যুতে এখন স্বয়ং সম্পূর্ণ অনেক উদ্যোক্তা। এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলছেন, সরকারের লক্ষ্য, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে যোগান দেয়া।
চট্টগ্রামের ইউনিভার্সেল জিন্স নামে একটি পোশাক তৈরির কারখানার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ম্যানেজার শাখাওয়াত হোসনে জানান, কারখানাটি ছাদে ৭০৮ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি বিতরণ কোম্পানির বিদ্যুতের দাম হিসাবে এখান থেকে প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে অন্তত ৩৪ হাজার টাকার বিদ্যুৎ।
তিনি জানান, ২৫ বছর মেয়াদী এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে যে ব্যয় হয়েছে তা উঠে আসতে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ বছর। এরপর কোনো খরচ ছাড়াই আরও ২০ বছর মিলবে বিদ্যুৎ। তাই প্রতিষ্ঠানটি আরও এক দশমিক ০৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। আগামী মাস থেকে বিদ্যুৎ মিলবে সেখান থেকেও।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, শিল্প কারখানার জ্বালানি নিয়ে সঙ্কট যখন বিশ্বব্যাপী, তখন সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা খুশি।
অপরদিকে দেশের আরেক শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের সোনারগাঁও সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম জানান, নিজেদের সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির ছাদে প্রায় ১৩ দশমিক সাত মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। দামের হিসাবে এখান থেকে প্রতিদিন মিলছে অন্তত তিন লাখ ৪৭ হাজার টাকার বিদ্যুৎ।
তিনি জানান, ছাদ ব্যবহার করে এমন আরও প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসানোর পরিকল্পনা আছে মেঘনা গ্রুপের ।
আরও পড়ুন: ‘লোডশেডিংয়ের সুফল, আজ থেকে টানা ১৫ দিন সেচে বিদ্যুৎ’
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, আধুনিক সৌর প্যানেলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও বিদ্যুৎ মেলে। দিনে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। এমন উদ্যোগের কারণে দ্রুতই সৌর শক্তি থেকে ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ মিলবে।
তিনি জানান, দেশে এখন আটটি সোলার পার্ক থেকে ২৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন আছে মোট ৪৪০ দশমিক ক্ষমতার আটটি প্রকল্প। নেট মিটারিংয়ের উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে নেয়া হচ্ছে প্রায় ৪৬ মেগাওয়াট। আর মিটার ছাড়া ছাদ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৫৭ মেগাওয়াট।
একাত্তর/এসি