আওয়ামী সরকার পতনের পর রেকর্ড কর ফাঁকির অভিযোগের মুখে বিদ্যুৎ খাতের জায়ান্ট সামিট গ্রুপ। দুই বছরে দুই হাজার কোটি টাকার আয়কর ফাঁকির তথ্য পেয়েছে এনবিআর। এর মধ্যে ডিভিডেন্ট আয়ে ৯৬৩ কোটি টাকা ও তিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নথি উন্মোচনে মিলেছে আরও এক হাজার বিশ কোটি। এছাড়া গ্রুপটির আরও কিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সামিট।
প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গ্রুপ সামিটের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ২০ শতাংশের যোগান আসে। তবে আওয়ামী সরকার পতনের পর থেকেই সরকারি সংস্থাগুলোর নজরদারিতে পড়ে এই শিল্প গ্রুপ। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ৬৩ শতাংশ শেয়ারের মালিক সামিট করপোরেশন। এনবিআরের হিসেবে, সামিট করপোরেশনকে ডিভিডেন্ট দিতে ২০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখার নিয়ম মানেনি সামিট পাওয়ারের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এতে আয়কর ফাঁকি হয়েছে ৯৬৩ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে সাবেক এনবিআর সদস্য খাইরুল ইসলাম বলেন, সামিট পাওয়ার ডিভিডেন্ড দেয় সামিট কর্পোরেশনকে। কিন্তু এনবিআরের আইনে আছে কোম্পানিকে যখন কোনো কোম্পানি ট্যাক্স ডিভিডেন্ড দেবে, তখন ওই ডিভিডেন্ড থেকে ২০ শতাংশ ট্যাক্স কর্তন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই। কাজে এটি নিয়ে আইনিভাবে এনবিআর পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ নেই। এছাড়া হাইকোর্ট করার ক্ষেত্রে করদাতা যেকোনো বিষয়ে রিট করতে পারেন।
এনবিআরের হিসেব মতে, সামিট পাওয়ার লিমিটেড ৭ বছরে ৩৮৮ কোটি, সামিট গাজীপুর-২ ৩ বছরে ১৭৬ কোটি, সামিট বরিশাল পাওয়ার ৪ বছরে ৫৬ কোটি, সামিট মেঘনাঘাট ৬ বছরে ৯৩ কোটি, সামিট নারায়ণগঞ্জ ইউনিট-২ তিন বছরে ২০ কোটি, সামিট এলএনজি টার্মিনাল ৩ বছরে ১০০ কোটি ও সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার ৬ বছরে ১৩০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছে। তবে এনবিআরের দাবি চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেছে গ্রুপটি, যা এখন বিচারাধীন।
এ নিয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান বলেন, সামিট গ্রুপের মামলাগুলো বিচারাধীন অবস্থায় শুনানির তালিকায় আছে। লিস্ট অনুযায়ী সেগুলো সামনে আসছে।
ডিভিডেন্ট আয়ে কর ফাঁকির তথ্য পাওয়ার পর আয়কর আইনের ২১২ ধারায় সামিট পাওয়ারের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি উন্মোচন শুরু করে এনবিআর। এরই মধ্যে তিনটির বিরুদ্ধে মিলেছে এক হাজার ২০ কোটি টাকা ফাঁকির তথ্য। নথি বলছে, আয় গোপনসহ নানা কারণে সামিট মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেডের ৪ বছরে ৭৬০ কোটি, সামিট বিবিয়ানা পাওয়ার লিমিটেডের ৫ বছরে ২৫২ কোটি ও সামিট বরিশাল পাওয়ার লিমিটেড ৯ বছরে সাড়ে ৭ কোটি টাকা কর ফাঁকি হয়েছে। এসব অভিযোগও চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যায় সামিট।
এদিকে কর ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে সামিটের সঙ্গে যোগাযোগ করে একাত্তর বিজনেস। লিখিত বার্তায় গ্রুপটি আইন লংঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে। দাবি করে, বিধি মোতাবেক সব কর পরিশোধের।
