প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর থেকে শিল্প কারখানায় বেড়েছে গ্যাস সরবরাহ। এতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তাতে পুরো সন্তুষ্ট নন উদ্যোক্তারা। বলছেন, অর্থনীতিতে গতি আনার মতো পরিস্থিতি নিশ্চিত হয়নি এখনও। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে চেষ্টা চলছে বলে জানান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।
রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে নিটওয়্যার থেকে। যাতে মূল্য সংযোজনও তুলনামূলক বেশি। অর্থাৎ তুলা থেকে সুতা, কাপড়, রঙ এমনকি বৈশ্বিক ক্রেতার চাহিদা মতো পোশাক তৈরির পূর্ণ সক্ষমতা থাকায় বরাবরই এগিয়ে এই শিল্পের উদ্যোক্তারা। মাস দেড়েক ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে থাকা এই খাতে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর।
ফতুল্লাহ ডাইয়িং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং মিলস লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক তুষার জানান, তাদের কারখানায় বর্তমানে গ্যাস পাচ্ছে সর্বোচ্চ ৪ পিএসআই চাপে। যা দুইদিন আগেও ছিল অর্ধেক। ফলে উৎপাদন খানিকটা বেড়ে উন্নীত হয়েছে সক্ষমতার ৬০ শতাংশে।
তবে আশুলিয়া, ভুলতা, গাজীপুর কিংবা নরসিংদী এলাকায় গ্যাসের চাপ এখনও তুলনামূলক কম। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটা অংশ অলস থাকছে সেসব অঞ্চলের কারখানাগুলোতে। বিকেএমইএ সভাপতি বলছেন মোহাম্মদ হাতেম, পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক। তবে অর্থনীতিতে গতি আনার মতো অবস্থা নিশ্চিত হয়নি এখনও।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, বর্তমানে সবমিলিয়ে গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ২৬০ কোটি ঘনফুট। এরমধ্যে ১৬০ কোটি দেশিয় গ্যাস। বাকিটা আসছে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে। সংস্থার চেয়ারম্যান বলছেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজে লাগানো হচ্ছে এলএনজি টার্মিনালের পূর্ণ সক্ষমতা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, মো. আব্দুল মান্নান জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত গ্যাসের ৪৫ শতাংশ যাচ্ছে শিল্পকারখানায়। বাকিটা বিদ্যুৎ, সার, সিএনজি ও বাসাবাড়িতে।
নিজস্ব গ্যাসের ওপর নির্ভর করে দেশে গড়ে ওঠা নিটওয়্যার শিল্পের ভরসা এখন আমদানি করা এলএনজি। অর্থাৎ ভাসমান টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমলেই বিপদ। ফলে এই খাতের সক্ষমতা যেমন ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি ম্যানমেইড বা ওভেন পোশাকে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ।
ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের অভিনব জালিয়াতি