শস্যচুক্তি স্থগিতের প্রভাব দেশের গমের বাজারেও

কৃষ্ণসাগরের বন্দর ব্যবহার করে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানি নিয়ে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় শস্যচুক্তি হয়েছিলো। সেটি নবায়ন করেনি রাশিয়া।

এই খবরের প্রভাবে সারা বিশ্বে বৈশ্বিক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বা পণ্য লেনদেনের বাজারে গম, ভুট্টাসহ নানা পণ্যের দাম বাড়ছে গত এক সপ্তাহ ধরেই। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডেও দাম বেড়েছে।

শস্য রপ্তানি নিয়ে আন্তর্জাতিক চুক্তি নবায়ন না হওয়ার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও। কারণ, বছরে দেশে গড়ে গম আমদানি হয় ৭০ লাখ টনের বেশি। এর বড় অংশ আসে রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকেই।

যদিও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বললেন, সর্বকালের সবচেয়ে বেশি মজুদের কারণে সরকারি গুদামে এখন সাড়ে ছয় লাখ টন ধান-গম উদ্বৃত্ত মজুদ আছে। তার মতে চিন্তার কোন কারণ নেই।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, খাদ্যের মজুদ বর্তমানে সর্বকালের সর্বোচ্চ। দেশে খাদ্য মজুদ সক্ষমতা ২১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিকটন। এখন দেশে মজুদ আছে ১৯ লাখ মেট্রিকটনেরও বেশি।

তিনি আরও জানান, এরপরও প্রকিওরমেন্ট চলছেই। অতএব চিন্তার কোনো কারণ নেই।

তবে চিন্তার ভাজ পড়ছে ভোক্তা এমনকি ময়দা মিল মালিকদের কপালেও। পাইকারিতেই গমের দাম এরই মধ্যেই ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ ঘুরে দেখা গেলো নিতাইগঞ্জে মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা চিন্তিত।

নবান্ন ফ্লাওয়ার মিলসের সত্ত্বাধিকারী ইকবাল আলী জানান, ইতোমধ্যেই গমের দাম বেড়েছে। বিকল্প সূত্র থেকে গম না আসলে পরিস্থিতি প্রতিকূলে চলে যাবে।

আরও পড়ুন: নাগরিকদের তথ্য ফাঁসের কারণ জানা গেছে: পলক

অবশ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একাত্তরকে জানিয়েছেন, দেশের আটা ও ময়দার বাজার স্থিতিশীল রাখতে গম আমদানি স্থিতিশীল রাখার কথা ভাবছে সরকার। ভারত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা ও ইউরোপ থেকে গম আমদানির বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


একাত্তর/জো