ইউক্রেনে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ আগ্রাসনের পর প্রথমবারের মতো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসলো ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে শুরু হওয়া হাই-প্রোফাইল ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে সামনে এসেছে ভূখণ্ডগত বিরোধ।
বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষে নেতৃত্ব দেন জিআরইউ প্রধান ইগর কস্তিউকভ এবং ইউক্রেনের পক্ষে রুস্তেম উমেরোভ। মার্কিন প্রতিনিধি হিসেবে জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ মধ্যস্থতা করছেন। খবর বিবিসির।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ডনবাস অঞ্চলের যেসব অংশ রাশিয়া এখনো দখল করতে পারেনি, তা কোনোভাবেই তাদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ডনবাসের ভবিষ্যৎ। রাশিয়ার দাবি—ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চলের সেই অংশগুলোও ছেড়ে দিতে হবে যা বর্তমানে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে। তবে জেলেনস্কির মতে, রণক্ষেত্রে যা হারাননি, তা আলোচনার টেবিলে দিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত। এখন কেবল ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা।
ওই বৈঠকে পশ্চিমা দেশগুলোতে আটকে থাকা রাশিয়ার ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। রাশিয়া এই অর্থ তাদের অধিকৃত অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যবহারের প্রস্তাব দিলে জেলেনস্কি তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ ধ্বংস হওয়া ইউক্রেন পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে হবে।

এদিকে যুদ্ধের ভয়াবহতার পাশাপাশি ইউক্রেন বর্তমানে চরম জ্বালানি সংকটে রয়েছে। রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো বিধ্বস্ত হওয়ায় হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে কিয়েভ। এই মানবিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া সুবিধা নিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ চার বছর পর শুরু হওয়া এই সরাসরি আলোচনা সফল হবে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংশয় ও সম্ভাবনা দুই-ই রয়েছে। জেলেনস্কি এই বৈঠককে ‘শুরু’ হিসেবে দেখলেও রাশিয়ার অনমনীয় দাবি শান্তি প্রক্রিয়ার গতিকে ধীর করে দিচ্ছে।
জেলেনস্কির মতে, আলোচনার ফলাফল কী হবে তা এখনই বলা মুশকিল, তবে ইউক্রেন তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেবে না।
তবে এই বৈঠককে অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
