পোশাক শ্রমিকের কাজের হিসেব জানায় যে ডিভাইস

শ্রমিকের দৈনিক কাজের হিসেব এবং উৎপাদন তথ্য জানতে রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় পিএমডি মিটার নামের আধুনিক ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ছে। একজন শ্রমিক কয় ঘণ্টা কাজ করলো, কয়টি পোশাক সেলাই করলো, মাসে ক’দিন কর্মস্থলে হাজির ছিলো এবং সেলাই করা পোশাকের ত্রুটি আছে কিনা সব তথ্যই এতে জানা যাবে।

সরেজমিনে এমনই এক কারখানায় ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকের কাজের অগ্রগতি নিজ রুমে বসেই দেখতে পাচ্ছেন গার্মেন্টস মালিক। যা সম্ভব হয়েছে গার্মেন্টসটিতে স্থাপন করা পিএমডি ডিভাইসের কারণে। ২৫০ সুয়িং অপারেটরের জন্য পিএমডি ডিভাইস কেনা এবং স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৫০ লাখ টাকা।

ফতুল্লা অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামিম এহসান জানান, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে যে রিপোর্ট ম্যানেজমেন্টের কাছে আসে, তাতে ভুল থাকার সম্ভাবনা থাকে। এখানে ভুলের সম্ভাবনা অনেক কম। কোন কর্মীর কাজের অগ্রগতি কেমন, কে কী করেন, সব দেখা সম্ভব হচ্ছে।

কারখানাটির সহকারী ব্যবস্থাপক মো. সোহেল রানা বলেন, একেকটি পিএমডি ডিভাইসের সংযোগ দেয়া আছে একেকটি সেলাই মেশিনের সাথে। শ্রমিক প্রতি আলাদা কার্ড থাকায় ডিভাইস পরিচালনায় কোনো প্রকার কারসাজি সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে কর্মীসহ সেলাই মেশিনেরও প্রকৃত তথ্য জানা যায় তাৎক্ষণিক। 

ফতুল্লা অ্যাপারেলসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, মেশিনে থাকা ডিভাইসের বাটনে মেকানিক, ডাক্তারসহ অন্যান্য অপশন সেট করা আছে। যা চাপলেই সংশ্লিষ্টদের কাছে মেসেজ চলে যায়, এবং তারা ওই মেশিনের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারেন।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক বলছেন, এই ডিভাইসের কারণে অন্তত ১০ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে, অপচয় কমেছে, সঠিক সময়ে পণ্য প্রস্তুত হচ্ছে সেই সাথে ত্রুটিপূর্ণ পোশাক শনাক্তকরণও সহজ হচ্ছে।

ফতুল্লা অ্যাপারেলসের জেনারেল ম্যানেজার মো. আসাদ জানান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষ উভয়েরই লাভ হচ্ছে এ ডিভাইসে। আগে মৌখিকভাবে শ্রমিকরা বলতেন, কে কী কাজ করেছেন। এখন মেশিনেই দেখা যাচ্ছে, কোন শ্রমিক কী করছেন।

শ্রমিকরাও বলছেন ডিভাইসটি তাদের কাজের দক্ষতার বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান করছে। বছর শেষে মেশিনে হিসেব করে তাদের বেতন-ভাতা বাড়ায় মালিকপক্ষ।