মাত্র দেড় কিলোমিটার দুরত্বের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। ঢাকায় প্রবেশের পথগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। পুলিশি তল্লাশির কারণে গাবতলী সেতুতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার সকালেই গাবতলী সেতুর দুই প্রান্তেই বসানো হয় পুলিশের তল্লাশি চৌকি। আর পুলিশি তল্লাশির কারণে সেতুর গাড়ি চলাচলে ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে। এদিন বিকেলেও তল্লাশি দেখা গেছে গাবতলী সেতু এলাকায়। তল্লাশির পরেই রাজধানীতে ঢুকতে পারছেন সাধারণ মানুষ।
বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকামুখী সড়কে যানজট বাড়তে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই যানজট হেমায়েতপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকার কারণে অনেক গণপরিবহন থেকে যাত্রী নামিয়ে দেয়া হয়। আবার অনেক গণপরিবহন ইউটার্ন নিয়ে ফিরে যায়।
সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকার প্রবেশের পথ গাবতলী-আমিনবাজার সেতু। সকালেই সেই সেতুর দুই প্রান্তেই বসানো হয় পুলিশের তল্লাশি চৌকি। গাবতলী পর্বত সিনেমা হল প্রান্তে অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য তল্লাশির দায়িত্বে আছে।
বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত পুলিশি তল্লাশির চিত্রে দেখা গেছে, ঢাকামুখী দূর ও স্বল্পপাল্লার বাস, মাইক্রো, প্রাইভেট কারে পুলিশের নজর বেশি। এছাড়া মোটরসাইকেল যোগে রাজধানীতে যারা প্রবেশ করছেন, তাদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে। ঢাকায় প্রবেশের কারণ জানতে চাচ্ছে ও পরিচয়পত্র দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে তার ব্যাগ ও মোবাইল তল্লাশি করছেন পুলিশ সদস্যরা। সেতু যানজট থাকায় এবং তল্লাশি হওয়ার কারণে পায়ে হেঁটে সেতু পারাপার হতে দেখা গেছে অনেক মানুষকে। তবে তল্লাশি চৌকি থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তােরর তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ঢাকার প্রবেশমুখে চলা তল্লাশি আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। আলাদা করে কোনো চেক পোস্ট নেই। শহরের নিরাপত্তা বজায় রাখতে যতো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, যতো স্তরের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ডিএমপির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে।