পণ্য পরিবহনের আড়ালে সক্রিয় চোর চক্র

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা পরিবর্তন কিংবা পণ্য পরিবহনের আড়ালে সক্রিয় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। তারা কাভার্ডভ্যান ও পিকআপে মালামাল পার করে দেয়ার কথা বলে সেগুলো বিক্রি করে গা ঢাকা দেয়।

চক্রটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দ্রুত গাড়ির নম্বর প্লেট ও রঙ পাল্টে ফেলে। সম্প্রতি এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ১ ফেব্রুয়ারি খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় এমনি একটি ঘটনা ঘটে। সেদিন বিকেল তিনটার দিকে একটি ট্রাকটি থামে মার্কেটের সামনে। চালক এবং ট্রাকে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

কিছুক্ষণ পর ট্রাকটি চলে যায়। কিন্তু আবারও ঘুরে একই মার্কেটের সামনে দাঁড়ায় ট্রাকটি। খুলনা থেকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ৩৫৫টি ব্যাটারি পৌঁছে দিতে ট্রাকটি ১৫ হাজার টাকায় ট্রাকটি ভাড়া করেছিলেন এক ব্যবসায়ী। রাত ৮টার পর ট্রাকে ব্যাটারি তুলে সেটি ছেড়ে যেতেও দেখা যায়।

খুলনার ওই ব্যবসায়ী ট্রাকে তার একজন কর্মচারী পাঠাতে চাইলেও ট্রাক চালক কৌশলে তাকে নামিয়ে দেন। এরপর বদলে যায় ট্রাকের গন্তব্য। মুন্সিগঞ্জে না গিয়ে ট্রাক থামে ঢাকায়। ৩৫৫টি ব্যাটারির মধ্যে ২৯০টি রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে কম দামে বিক্রি করে চোর চক্র।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ জানান, বাসা পরিবর্তনের সময় তারা মালামাল নিয়ে সটকে পড়তেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। জানা যায় তারা দীর্ঘদিন ধরে পণ্য পরিবহনের নামে মূলত চুরি করে আসছিলো। পাল্টে দিতো ট্রাকের রঙ ও নম্বর প্লেট।

এই চক্র থেকে রক্ষা পেতে গাড়ি ঠিক করার সময় যাচাই করে নিজস্ব লোক রাখার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ।