রঙ তুলির ছোঁয়ায় সেজেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার

ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে নতুন করে সেজেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। প্রতি বছরের মতো এবারও চারুকলার শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের রঙ তুলির আঁচড়ে বাঙালির ইতিহাস ফুটে উঠেছে শহীদ মিনারের চারপাশে। পুরো ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল করতে নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রক্ত প্লাবনের ইতিহাস দিয়ে গড়া বাঙালির আত্মপরিচয়। সেই আত্মত্যাগের দিনটি স্মরণ করতে নানা রঙে সাজানো হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

প্রভাতফেরির হাঁটা পথ আর চারপাশের দেয়াল বাঙালির গৌরবগাঁথার ইতিহাস দিয়েই আঁকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিল্পীদের তুলি আঁচড়ে স্মরণ করা ভাষা শহীদদের।

শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই নয় মহান শহীদ দিবস তো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও। তাই সেই দিনটির স্মরণ করতে এক নজর শহীদ মিনার দেখার আশায় ভিনদেশি বাঙালিরাও হাজির।

এ অবস্থায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুরো শহীদ মিনার এলাকায় থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা চাদর। 

র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘পোশাকের পাশাপাশি সিভিল পোশাকেও আইনশৃঙ্খলাবাহীনির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। আমাদের কাছে কোনো ধরনের থ্রেটের কোনো তথ্য নেই। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার জন্য বুকের তাজা রক্ত দিয়েছেন ভাষা শহীদরা। তাদের রক্তের বিনিময় মর্যাদা পেয়েছে মাতৃভাষা বাংলা।

21-February1

তাই ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহিঃপ্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। জাতির এই সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত সবাই।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ এ গানটি শুনলে মনে পড়ে যায় ভাষা শহীদদের কথা। ভাষা শহীদদের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবছরের মতো এবছরও শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। বুধবার শহীদদের স্মরণে ফুলে ফুলে ভরে উঠবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদি।

সোম ও মঙ্গলবার শহীদ মিনার এলাকায় সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শহীদ মিনারে আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। শহীদ মিনার এলাকায় লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তার হুমকি নেই। পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে মোকাবেলায় পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে। পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সমগ্র এলাকা সিসি টিভির আওতায় থাকবে।

জাতির সূর্যসন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছর প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আসেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যক্তিবর্গ। পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যদিয়ে ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয় দিনটি।

21-February2

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে ২১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ তার আশপাশে প্রবেশের অন্তত ১৩টি সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বন্ধ থাকা ১৩টি সড়ক হলো- শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, শহীদুল্লাহ হল, জিমনেসিয়াম মাঠ গেট, রোমানা ক্রসিং, জগন্নাথ হল, ভাস্কর্য ক্রসিং, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশিবাজার ও চানখাঁরপুল ক্রসিং এলাকা।

বিকল্প পথ হিসেবে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, পলাশী, বকশিবাজার ক্রসিং হয়ে চানখাঁরপুল ক্রসিংয়ে যাওয়া যাবে।

আবার শাহবাগ, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং হয়ে মিরপুর রোডে যান চলাচল করবে। শাহবাগ, মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, হাইকোর্ট, আবদুল গণি রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট ক্রসিং; হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং হয়ে ফুলবাড়িয়া ক্রসিং এবং শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর, সোনারগাঁও ক্রসিং হয়ে ফার্মগেট, বকশিবাজার, চানখাঁরপুল, নিমতলী ক্রসিং হয়ে মেয়র হানিফ উড়াল সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।

21-February3

তবে বকশিবাজার-জগন্নাথ হল ক্রসিং সড়ক, চানখাঁরপুল-রোমানা চত্বর ক্রসিং সড়ক, টিএসসি-শিববাড়ী ক্রসিং সড়ক, উপাচার্য ভবন-ভাস্কর্য ক্রসিং সড়ক দিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করা যাবে না। পলাশী ক্রসিং থেকে শহীদ মিনার হয়ে দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট ক্রসিং, টিএসসি ক্রসিং, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং দিয়ে হেঁটে চলাচল করা যাবে।

শহীদ মিনারে আসা ভিআইপিরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম মাঠে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন মাঠে আর সর্বসাধারণ নীলক্ষেত ক্রসিং-পলাশী ক্রসিংয়ে গাড়ি রাখতে পারবেন।