ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উদ্যোগে আগামী ১৬ অক্টোবর বিকেল তিনটায় চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ‘শরৎ উৎসব ১৪৩২’ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহযোগিতায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চারুকলা অনুষদ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং বকুলতলায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে উৎসব আয়োজনের অনুমতি দিয়ে থাকে। সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী শরৎ উৎসব আয়োজনের জন্য আবেদন করলে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ৯ অক্টোবর ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পীসমাজ আয়োজকদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উত্থাপন করে, যার প্রমাণসহ তথ্য চারুকলা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে ছাত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।
১১ অক্টোবর ডিনের সভাপতিত্বে সভায় অভিযোগের তদন্তে দেখা যায়, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছিল। ফলে তাদের শরৎ উৎসবের অনুমতি বাতিল করা হয়।
চারুকলা অনুষদ ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠানের মূল্যবোধ ধারণ করে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১৬ বৃহস্পতিবার, বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে, সংগীত ও নৃত্যকলা বিভাগ এবং ডাকসুর সহযোগিতায় বকুলতলায় শরৎ উৎসব ১৪৩২ আয়োজিত হবে।
এর আগে ‘আপত্তি’ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বকুলতলায় সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব’ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ার পরও তা বাতিল করে দিয়েছে চারুকলা অনুষদ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে গেণ্ডারিয়ার কচিকাঁচার স্কুল মাঠে এই আয়োজন করার কথা থাকলেও এখানেও ‘স্থানীয়দের গোলযোগের আশঙ্কায়’ আয়োজন করতে পারেনি সংগঠনটি।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় উৎসবটি করার কথা ছিলো। পরে আয়োজকেরা উৎসবটি একই সময়ে গেণ্ডারিয়ার কচিকাঁচার মেলার মাঠে আয়োজন করার ঘোষণা দেয়। সেখানে ‘অনুমতি না থাকার’ কথা জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে থেকে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট জানান, প্রায় ১৯ বছর ধরে চলা এই শরৎ উৎসব কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয়। কোভিড মহামারী ছাড়া কোনো বছরই উৎসবটি বন্ধ হয়নি। এবার করতে পারলাম না।
ভুঁইফোড় অনেক সংগঠন এসব আয়োজনকে অপহরণ করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, যারা এসবের নেপথ্যে, তারা কোনো দলের নয়। সংস্কৃতিকে ঠেকানোই এদের উদ্দেশ্য। এতে বরং বিব্রত হবে সরকারই।
