রাজধানীর মোহাম্মদপুর রামচন্দ্রপুর খাল পরিষ্কার আর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। এসময় একটি বহুতল ভবনের একাংশসহ আরও কিছু স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়। নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য কয়েকশো স্বেচ্ছাসেবী মিলে খালের ময়লা পরিষ্কার অভিযানে নেমেছিলেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
কাগজে-কলমে বসিলার রামচন্দ্রপুর খালটি ১০০ ফুট চওড়া। লাউতলা খালের যেখানটায় এসে খালটি মিশেছে সেখানে ১৩০ ফুট চওড়া থাকার কথা। কিন্তু, এখানে গড়ে উঠেছে ১০ তলার এই ভবনটি।
ডিজিটাল সার্ভে ম্যাপেও স্পষ্ট যে, এই ভবনটির বেশিরভাগ অংশই খালের মধ্যে। তাই, শুক্রবারের অভিযানের শুরুতেই খালের জায়গায় গড়ে উঠা এই ভবনটির একাংশ ভেঙে দেয় উত্তর সিটি।
উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানান, রাজউকের অবহেলার কারণেই এমন অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। আবার, ভবনের মালিকও স্বীকার করেছেন কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিলো।
তবে, যেভাবেই গড়ে উঠুক না কেনো? খালের জায়গায় গড়ে ওঠা কোনো স্থাপনা রাখা হবে না বলে জানান মেয়র।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এসব তদারকি করার দায়িত্ব রাজউকের। রাজউক যদি তদারকি করে থাকেন তাহলে অবশ্যই এ ধরনের অবৈধ বিল্ডিং হতে পারে না।
বহুতল এই ভবনের পাশাপাশি খালের জায়গায় গড়ে উঠা আরও কিছু স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়।
একদিকে যখন উচ্ছেদ অভিযান চলছিলো, তখন বিডি ক্লিনের দেড় হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী খালের অন্যপ্রান্তে ব্যস্ত ছিলেন ময়লা পরিষ্কারে। একটা পর্যায়ে মেয়র নিজেও নেমে পড়েন খাল পরিষ্কারে।
মূলত খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার ব্যাপারে খালের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের সচেতন করতেই এমন উদ্যোগ।
উত্তরের মেয়র আরও বলেন, সুন্দর একটা ঢাকা শহর যদি দেখতে চাই, তাহলে এ ধরনের খালকে আমাদের দখলমুক্ত করতে হবে। সাথে সাথে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে।
কিছুদিন আগে প্যারিস খাল পরিষ্কার করেছে উত্তর সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু, নগরবাসীর অবহেলার কারণে বেশিদিন খাল পরিষ্কার রাখা যায় না। তাই, খাল বাঁচাতে নাগরিকদের সচেতন আচরণ আশা করেছেন মেয়র।