খাসির লেগ রোস্ট, হরিয়ালি কাবাব, কাশ্মীরি পরোটা আর জিলাপির মতো মুখরোচক সব খাবারের পসরায় পরিপূর্ণ রেস্টুরেন্টের করিডোর। সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যাটা অনেক কম।
রামপুরার আল কাদেরিয়া রেস্টুরেন্টে অন্য বছরের মতো এবারও ইফতারের নানা আয়োজন। বিশেষ করে এই রেস্টুরেন্টের হালিম ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়।
বেইলি রোডের গ্রিন কোনিজ ভবনে আগুনের পর হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইফতার বাণিজ্যে এবার ধস নেমেছে। বিভিন্ন সংস্থার অভিযান আপাতত না থাকলেও, জমছে না ইফতার বাজার। রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন, আগুন আতঙ্কে হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইফতারের ক্রেতা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তবে অনলাইনে ইফতারের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুনের ঘটনা ঘটে যেখানে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়।
এরপর রাজধানীর অবৈধ হোটেল, রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রাজউক ও সিটি করপোরেশন সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়। অভিযানে প্রায় হাজার খানেক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকশো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ২০টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
ওই আগুনের ঘটনার পর রেস্টুরেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা উঠেছে দেশজুড়ে। নিয়ম না মানায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বেইলি রোডের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, আগুনের ঘটনার পর বেইলি রোড ইফতার বাজার একদমই জমছে না। গতবছরের তুলনায় তাই বাধ্য হয়েই এবার অনেক আইটেম কমিয়ে দিয়েছেন তারা।
ক্রেতারা বলছেন,বাসায় অনেক আইটেম তৈরির সময় মেলে না। তাই রেস্টুরেন্টের ইফতারের উপর ভরসা অনেকের।
রেস্টুরেন্টে বসে ইফতার খাবার ক্রেতা কমলেও, বেড়েছে অনলাইনে বিক্রি।
আল কাদেরিয়ার এক কর্মী জানালেন, বসে খাবার ব্যবস্থা থাকলেও এবার অন্যবারের তুলনায় গ্রাহক কম। বরং অনলাইনে তাদের বিক্রি বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ফিরোজ আল সুমন জানান, একদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি অন্যদিকে মানুষের আতংক; দুইয়ে মিলে রেস্টুরেন্টের ইফতার ব্যবসা এবার অনেকটাই খারাপ।
তিনি বলেন, গত বছর যদি বিক্রি দশ টাকা হয়ে থাকে। এবার জিনিসপত্রের দামের কারণে দাম বাড়াতে হয়েছে। সে হিসাব করলে বিক্রি বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা শহরে এবার প্রায় সব রেস্টুরেন্টে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বিক্রি কম।
দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নতির আশা রেস্তোরা মালিক ও কর্মচারীদের।