দূতাবাস পাড়ায় পুলিশের গুলিতে পুলিশের মৃত্যু

রাজধানীর গুলশানে এক পুলিশ সদস্যের গুলিতে আরেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ১২টার দিকে গুলশানে ঢাকাস্থ ফিলিস্তিনি দূতাবাসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, এক পুলিশ সদস্যের এলোপাথাড়ি গুলিতে আরেক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় ওই ঘটনায় এক পথচারী ও জাপান দূতাবাসের এক গাড়িচালকসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ফিলিস্তিন দূতাবাসে ডিউটিরত কনস্টেবল কাওসার আলীর গুলিতে নিহত হয়েছেন কনস্টেবল মনিরুল। নিহত মনিরুলের বাড়ি নেত্রকোনায়। তারা দুইজনেই ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি জোনে’ কর্মরত ছিলেন।

ওসি বলেন, সম্ভবত মানসিক সমস্যার কারণে তাদের এক কনস্টেবল আরেক কনস্টেবলকে গুলি করেছে। এই ঘটনায় পথচারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছেন। কিন্তু ওই পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকায় এবং সামনে এগুতে চাইলে গুলি শুরু করায় তারা কাছাকাছি যেতে পারছেন না।

তিনি জানান, নিহত পুলিশ সদস্যের মরদেহ ফিলিস্তিন দূতাবাসের সামনের রাস্তায় পড়ে আছে। তার পিঠে তিনটি গুলির চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

একাত্তরের সহযোগী প্রযোজক রফিকুল ইসলাম পাপ্পু জানান, তাদের গাড়ি ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় গাড়ির গতি কমানোয় তাদের বকা দিয়ে ফাকা গুলি ছুড়েছে ওই সশস্ত্র পুলিশ সদস্য।

এদিকে, ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট মোতায়েন করা হয়। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য দীর্ঘক্ষণ বন্দুক তাক করে রাখে। পুলিশের গুলশান বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানালে রাত সোয়া একটার দিকে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং নিহত পুলিশ সদস্যের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।