উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ জায়গার বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হলেও কিছু কিছু জায়গায় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন না থাকায় রাস্তা ওপরই ডাম্পিং করা হচ্ছে সব ময়লা। ফলে ভোগান্তি বেড়েছে ওই এলাকার মানুষদের।
কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্জ্য স্থানান্তরের কাঠামো তৈরি করতে অন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা। আর বনশ্রী এলাকার সীমানা জটিলতার কারণে সেখানকার বর্জ্য পরিষ্কারের উদ্যোগ নেই কোনো সিটি কর্পোরেশনের।
দুই সিটি কর্পোরেশনের দাবি, প্রথম দিনের কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা হয়েছে। অথচ রাজধানীর বনশ্রীতে মূল সড়কে খালের পাশ ঘিরে পড়ে থাকা বর্জ্য যেন কারো চোখেই পড়ছে না।
ওয়ার্ডের সীমানা জটিলতার কারণে উত্তর কিংবা দক্ষিণ কোনো সিটি কর্পোরেশনই এই এলাকার দায় নিতে নারাজ। নগর পিতা নেই তাই এতিমের মতোই দুর্দশাগ্রস্ত বনশ্রীর এই অংশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।
তবে এলাকা নিজেদের না হলেও উত্তর সিটি কর্পোরেশনই অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে এসব বর্জ্য অপসারণের আশ্বাস দিয়েছে।
উত্তরের অধিকাংশ জায়গাতেই নিরলস কাজ করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তাই কোরবানির বর্জ্য নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ নেই নগরবাসীর।
তারা বলেন, গত বারের তুলনায় এবার অনেক সুন্দরভাবে বর্জ্য পরিষ্কার করা হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় তাদের কাজে সুবিধা হয়েছে।
তবে বিপত্তিটা বাঁধছে যেসব এলাকায় বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বা এসটিএস নেই। রাস্তার ওপরই চলছে বর্জ্য অপসারণের কাজ ফলে দুর্ভোগে সেসব এলাকার মানুষ।
মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের বাসিন্দারা বলেন, এই পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এখানে মানুষ থাকতে পারে না।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ফিদা হাসান বলেন, দ্রুতই এসব এলাকায় এসটিএস নির্মাণের চেষ্টা চলছে। এটি নিয়ে আমাদের বড় রকমের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা মিরপুর ১০ নম্বরের কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন। একটি জায়গা নির্ধারণ করে সেখানে একটি বড় কনটেইনার বসিয়ে কীভাবে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো যায় সেই চেষ্টা আমরা করছি।
চিড়িয়াখানা সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকায় বর্জ্য আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই এলাকায় আমার আন্ডারগ্রাউন্ড এসটিএসের চিন্তা করছি।
পাশাপাশি উত্তরের সাতটি গরুর হাটের বর্জ্য অপসারণের জন্য আরও দিন দুয়েক সময় প্রয়োজন বলেও জানায় কর্তৃপক্ষ।